বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সাড়ে তিন বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েক মাস আগে উপজেলার ঘোষগাতী গ্রামে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছে বলে তার পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার অভাবে শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে পরিবার।
অভিযোগ উঠেছে, শিশুটির আপন ফুফাতো ভাই হামিম ওরফে রিফাত (১৩) ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। সে ঘোষগাতী গ্রামের হারুন ফকিরের ছেলে। কয়েক মাস আগে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে শিশুটির দাদার ঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
শিশুটির মা জানান, ঘটনার পর কয়েকদিন শিশুটির রক্তপাত হয়। পরে রক্তপাত বন্ধ হলেও বমি ও অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাকে গোপালগঞ্জে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক জটিলতার বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং চিকিৎসা দেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে খুলনাতেও নেওয়া হয়।
শিশুটির মা আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসার সময় পাওয়া বিভিন্ন কাগজপত্র বর্তমানে অভিযুক্ত কিশোরের পরিবারের লোকজনের কাছে রয়েছে। এসব চিকিৎসাপত্র হাতে না থাকায় শিশুটির পরবর্তী চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও তারা সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
শিশুটির দাদী এবং অভিযুক্ত কিশোরের নানী খাদিজা বলেন, চিকিৎসাপত্র তার ভাই নগরকান্দী গ্রামের গাউস শেখের কাছে রয়েছে। বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করার কথাও তিনি জানান। তার ভাষ্য, শিশুটির বাবা টাকা চাইলে টাকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, না হলে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
তবে চিকিৎসাপত্রের বিষয়ে গাউস শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে জানান, কাগজপত্র তার কাছে নেই। পরে তিনি বলেন, সেগুলো অভিযুক্ত কিশোরের দাদা মোস্তফা ফকিরের কাছে রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাটি যাতে আইনগতভাবে সামনে না আসে, সে জন্য শিশুটির চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র আত্মীয়স্বজনের কাছে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিশুটির অসহায় বাবা-মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুটির বাবা একজন ভ্যানচালক। সামান্য উপার্জনে সংসারের খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে শিশুটির ব্যয়বহুল উন্নত চিকিৎসার খরচ বহন করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। কোনো পারিবারিক বা আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে এমন গুরুতর অভিযোগ যেন চাপা না পড়ে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, একটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ ও জীবন নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা আপসের সুযোগ নেই। দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং আইনগত সহায়তা নিশ্চিত না হলে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযুক্ত কিশোর হামিম ওরফে রিফাতের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা, মা ও দাদাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।