সিলেট গ্যাস ফিল্ডের টেন্ডারে বাধার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের টেন্ডারে বাধার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) কয়েকটি বিভাগ ও গ্যাস ফিল্ডের জন্য চালক ও জ্বালানিসহ ভাড়ায় গাড়ি সরবরাহের দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত সময়ে দরপত্র জমা দিতে এসে টেন্ডার বাক্সে কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাননি কয়েকজন ব্যবসায়ী।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত সময়ে টেন্ডার জমা দেওয়ার জন্য প্রায় ১২ জন ব্যবসায়ী উপস্থিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র চারটি দরপত্র জমা পড়ে। তাঁদের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও তাঁদের অনুসারীরা অন্য ব্যবসায়ীদের দরপত্র জমা দিতে বাধা দেন।

ব্যাবসায়ীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনিপির সভাপতি আব্দুর রশিদ ও দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো: বাহারুল আলম বাহারসহ প্রায় ৪০/৫০ জনের একটি দল গ্যাসফিল্ড এলাকায় আসেন। এসময় সিলেট ও সিলেটের বাইরে থেকে আগত ব্যাবসায়ীদের সাথে সমজোতার কথা বলেন। তারা সিবিএ কার্যালয়ে দুপুর একটা পর্যন্ত ছিলেন।

ব্যাবসায়ীদের অভিযোগ তখন জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহীন আলমসহ কয়েকজন মিলে অন্যা ব্যাবসায়ীদেরকে টেন্ডার জমা দেওয়ার সময় বাধা দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার জমা দিতে এসেছিলাম। কিন্তু শাহীন আলমসহ কয়েকজন আমাদের টেন্ডার জমা দিতে বাধা দেন। শেষ পর্যন্ত চারটি টেন্ডার জমা হয়েছে। অন্যদের কাউকেই টেন্ডার জমা দিতে দেওয়া হয়নি।” আরেক ব্যবসায়ী মোসায়িদ আলী বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও তাঁদের অনুসারী টেন্ডার এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

এসজিএফএলের সিবিএর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম তাঁদের বলেন, বিএনপি নেতা আব্দর রশিদ ও চেয়ারম্যান বাহার উদ্দিন কিছু নেতা কর্মীদের নিয়ে আমাদের সিবিএ কার্যালয়ে আসেন, আমরা তাদের চা-নাস্তার জন্য ব্যবস্থা করি। তখন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ব্যাবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে সমজোতার প্রস্তাব দেন। এবং আগামী ২৫ তারিখে আবার সমজোতার জন্য বসার কথা রয়েছে। টেন্ডার বাক্সের দায়িত্বে থাকা এসজিএফএলের পরিবহন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান দৈনিক আমার দেশকে বলেন, ঝামেলা হয়েছে শুনেছি তবে, আমরা কার্যালয়ের ভিতরে ছিলাম। যারজন্য বাহিরে কি হয়েছে তা বিস্তারিত বলতে পারবনা। কমিটির সাথে সাথে আলাপ করে বিস্তারিত বলতে পরব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, টেন্ডার জমাদানের পরিবেশ ছিল মারমুখী। স্থানীয় এলাকার ১০ থেকে ১২ জন এসে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের টেন্ডার জমা দিতে দেননি বলে তিনি জানান। চারটি টেন্ডার জমা পড়েছে। কিন্তু অন্যান্য ব্যবসায়ী সময়মতো এসেও স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের বাধার কারণে দরপত্র জমা দিতে পারেননি।

চার প্যাকেজে নয়টি গাড়ি

এসজিএফএলের দরপত্র-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই বিভিন্ন বিভাগ ও গ্যাস ফিল্ডের জন্য চালক ও জ্বালানি (চঙখ)সহ ভাড়াভিত্তিক মাঝারি মিনিবাস, মাইক্রোবাস ও পিকআপ সরবরাহের জন্য জাতীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ২৪ আগস্ট দরপত্রের সময়সূচি সংশোধন করা হয়।

দরপত্রে চারটি প্যাকেজের মাধ্যমে মোট নয়টি যানবাহন ভাড়ায় নেওয়ার কথা রয়েছে। প্যাকেজ ‘ক’-এর আওতায় সিলেটের চিকনাগুলে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ের জন্য একটি এবং হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের জন্য দুটিসহ মোট তিনটি ৩৬ আসনের মাঝারি মিনিবাস নেওয়ার কথা রয়েছে। এ প্যাকেজে গত তিন বছরে সমমূল্যের সফলভাবে সম্পন্ন কাজের ন্যূনতম অভিজ্ঞতার অর্থমূল্য ৫০ লাখ টাকা।

প্যাকেজ ‘খ’-এর আওতায় প্রধান কার্যালয়ের জন্য কমপক্ষে সাত আসনের চারটি মাইক্রোবাস নেওয়ার কথা রয়েছে। এ প্যাকেজে ন্যূনতম অভিজ্ঞতার অর্থমূল্য ৮৮ লাখ টাকা।

প্যাকেজ ‘গ’-এর আওতায় হরিপুর গ্যাস ফিল্ডের জন্য কমপক্ষে ১১ আসনের একটি মাইক্রোবাস এবং প্যাকেজ ‘ঘ’-এর আওতায় রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের জন্য পাঁচ আসনের একটি ডাবল কেবিন পিকআপ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ দুটি প্যাকেজে ন্যূনতম অভিজ্ঞতার অর্থমূল্য যথাক্রমে ২২ লাখ ও ২৭ লাখ টাকা।

দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত অভিজ্ঞতা, বার্ষিক টার্নওভার, তরল সম্পদ বা চলতি মূলধনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি শর্ত পূরণ করতে হবে।

অভিযোগ অস্বীকার শাহীন আলমের অভিযোগের বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহীন আলম বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম। সেখানে চারটি টেন্ডার জমা পড়েছে। অন্যান্য ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে এসেছেন, কিন্তু কেন টেন্ডার জমা দেননি, এটি আমি বলতে পারব না।” নিজের বিরুদ্ধে দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা”বলে দাবি করেন তিনি।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

অভিযোগকারী ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র প্রক্রিয়ায় সব যোগ্য দরদাতার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো যোগ্য দরদাতা দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁরা টেন্ডার বাক্সে জমা পড়া চারটি দরপত্র, উপস্থিত ব্যবসায়ীদের তালিকা, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য এবং দরপত্র জমাদানের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে