‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শান্তিগঞ্জে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) ও উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের হলরুমে পিএফজির উদ্যোগে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পিস অ্যাম্বাসেডর সিরাজ মিয়ার সভাপতিত্বে ও পিস অ্যাম্বাসেডর জিয়াউর রহমান জিয়ার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহীনূর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিমা, উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সাইট ইঞ্জিনিয়ার আতিউর রহমান, একাডেমিক সুপারভাইজার নূরে আলম সিদ্দিকী, উপজেলা জামিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাই, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মামুন আহমেদ এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের কুদরত পাশা।
স্বাগত বক্তব্যে কুদরত পাশা বলেন, পিএফজি একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী, সহনশীল, মুক্ত ও মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহাবস্থান নিশ্চিত করা, ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ এবং সম্মিলিত উদ্যোগে সামাজিক সমস্যা সমাধানে পিএফজি কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা নিরসন এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করাই এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও হিল্লোল চাকমা বলেন, আমি শান্তিগঞ্জ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে পরিচালিত কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রকল্পের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তারা যেন ভবিষ্যতেও শান্তি ও সম্প্রীতির চর্চা অব্যাহত রাখেন।
তিনি আরও বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা এখন পর্যন্ত শান্তি-সম্প্রীতির দিক থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে শান্তি ও সম্প্রীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে তা সমাজের সবার জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তি-সম্প্রীতির শান্তিগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব হবে উল্লেখ করে তিনি পিএফজির বিভিন্ন কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভায় বক্তব্য দেন জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য তৈয়বুন নেছা, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য জহুরা বেগম, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য নাছিমা, জামিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম সম্পাদক আতিকুল হক, পিএফজি সমন্বয়কারী দোলন রানী তালুকদার, পিএফজি সদস্য জেসমিন আক্তার, রোকসানা বেগম, সৈয়দ আলম, মতিউর রহমান, ছুরত মিয়া, জয়ন্ত তালুকদার, নিজাম উদ্দিন, আলেয়া, শিউলী দেবী, আবু সাইদ, নাজমা বেগম ও সফিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া ইয়থ গ্রুপের সমন্বয়কারী মানসুর আহমদ, সদস্য কাওছার, হাবিবুর রহমান, জাহিদুল ইসলামসহ পিএফজি ও ইয়থ গ্রুপের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে পিএফজি, উপজেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।