পটুয়াখালীতে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
পটুয়াখালীতে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন পায়রা পেট্রোল পাম্প মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত চারজনই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

নিহতরা হলেন গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের রাজ্জাক প্যাদার ছেলে কাইয়ুম প্যাদা (৫০), একই উপজেলার চার আনি বাউরিয়া গ্রামের অনিল হাওলাদারের মেয়ে শিল্পী রানী (৪০), বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের ধীরেন মিস্ত্রীর মেয়ে তিথী (২৩) এবং সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইমরান ট্রাভেলসের একটি বাস পটুয়াখালীর বসাক বাজারসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি যানই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

সংঘর্ষের পর অটোরিকশাটি বাসের নিচে চাপা পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাসটি সরিয়ে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। বাসের ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না এবং পানির মধ্যে আর কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, তা দেখতে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।

দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাসের কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। এক যাত্রী সালমান জানান, বাসটি শুরু থেকেই বেপরোয়া গতিতে চলছিল। দুর্ঘটনার পর কীভাবে বাসটি খাদে পড়ে গেল, তা বুঝতে পারেননি তিনি।

আরেক যাত্রী আবির ইসলাম জানান, তারা ঢাকায় তাবলিগ জামাতে যাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যরাও সঙ্গে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর বাসটি খাদে পড়ে গেলে তিনি নাতিকে কোলে নিয়ে ছিটকে পড়েন। পরে দুজনই বেঁচে আছেন বলে চিৎকার করে জানান তিনি।

পটুয়াখালী সদর থানার উপপরিদর্শক মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি তুলে আনা হয়েছে। সর্বশেষ বাসের নিচ থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মোট চারজন নিহত হয়েছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সুপারভাইজার ঘটনাস্থল থেকে সরে গেছেন বলে স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে