ঈশ্বরদীর এটি রাস্তা নাকি মরণফাঁদ, সড়কে আটকে থাকে গাড়ি

এফএনএস (সেলিম আহমেদ; ঈশ্বরদী, পাবনা) : | প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
ঈশ্বরদীর এটি রাস্তা নাকি মরণফাঁদ, সড়কে আটকে থাকে গাড়ি

গাড়ি বিকল ও আহত হওয়ার ঘটনা এখন নিত্যদিনের। সড়কের খানাখন্দে গাড়ি উল্টে পড়া এখন নিত্য দিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পাকা রাস্তার গর্তে পড়ে বিকল হয়ে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ আরও দুটি যাত্রীবাহী গাড়ি আটকে ছিল দিনভর। দুর্ঘটনা এখন প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে ঈশ্বরদী ইপিজেডে যাতায়াতের টিপু সুলতান সড়কে। মেয়র-প্রশাসক যায়-আসে কিন্তু পৌর শহরের একটি অবহেলিত সড়কের গতি আর হয় না। ঈশ্বরদীর সবচেয়ে ব্যস্ততম এই সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন চলতি পথে এ সড়কে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। প্রথম শ্রেণির পৌর শহর ঈশ্বরদীর যে অঞ্চলে স্থাপন হচ্ছে রূপপুর প্রকল্পের মতো দেশের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প। সেই এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম ব্যস্ততম সড়কে নিত্যদিনের দুর্দশা নিয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন মানুষ।

জানা গেছে, গত ১০ বছর ধরে এই রাস্তার কাজ হবে-হচ্ছে করে কাজ আর হয়নি। গত ৬ মাস ধরে এ রাস্তার টেন্ডার হবে বলে জানানো হলেও কার্যত এখনো টেন্ডারই হয়নি। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই রাস্তা দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ঈশ্বরদী ইপিজেডে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক ও বিদেশী নাগরিকরা চলাচল করেন প্রতিদিন। এছাড়া শ্রমিক পরিবহনের ইঞ্জিনচালিত ছোট-বড় শত শত যানবাহন, যাত্রীবাহি বাস, পণ্যবাহী ট্রাক আর বালু বহনকারী ট্রাক্টর, দশ চাকার ড্রাম ট্রাকের চলাচলে দিন-রাত চব্বিশ ঘন্টা ব্যস্ত থাকে এ সড়ক। একদিন বৃষ্টি হলে এ সড়কে পানি জমে থাকে কয়েকদিন। পানি জমে থাকতেই আবারো বৃষ্টি হলে জমে থাকা পানি দ্বিগুন হয়। রাস্তার পাশে ড্রেন না থাকায় পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। এভাবে মাসের পর মাস ধরে একটি সড়ক ভেঙে-চুরে, পানি-কাদায় একাকার হয়ে থাকলেও প্রতি বছর অপেক্ষা করতে করতে শেষ হতে চলেছে আরও একটা বর্ষাকাল। এ বছর বর্ষাকাল শুরুর পর থেকেই এ সড়কে জলাবদ্ধতায় আরও দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা তানজিরুল আলম মিটো বলেন, এমনিতেই রাস্তা ভাঙাচোরা তার ওপর রাস্তার গা ঘেঁষে জন্ম নেওয়া ঝোপঝাড়ের কারণে সন্ধ্যার পর এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায়না। বৃষ্টি এলে রাস্তায় কাদা-পানি আর পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। বড় বড় খানাখন্দে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানি রাস্তাতেই জমে থাকে দিনের পর দিন। জলমগ্ন রাস্তায় যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই গাড়ি উল্টে পড়ে। টিপু সুলতান রোডটি ঈশ্বরদী শহর থেকে সাঁড়াগোপালপুর, বকশিরচক তালতলা হয়ে ঈশ্বরদী ইপিজেড, পাকশী পেপার মিল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প হয়ে লালন শাহ সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সড়কের প্রায় ২ কিলোমিটার অংশ পৌরসভার, রাস্তার পাশের অংশ রেলওয়ের এবং অন্য অংশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের। প্রথম শ্রেণির ঈশ্বরদী পৌরসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শহরের রেলওয়ে গেট থেকে ঈশ্বরদী ইপিজেডে যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। বহু বছরের পুরনো এই সড়কে সারা বছরই ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হয় চলাচলরত সব ধরনের যানবাহন ও সাধারণ মানুষকে।

ইপিজেডে প্রতিদিন চলাচল করা বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন ভাঙা রাস্তায় গাড়ি ভেঙে-উল্টে দুর্ঘটনায় পড়ে। প্রতিদিন একাধিক গাড়ি রাস্তায় বিকল হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে থাকে। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের।  

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল জব্বার জানান, রাস্তাটির ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণেই রাস্তাটি বারবার ভেঙে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে বৃষ্টির পানি ভাঙাচোরা অংশে জমে গিয়ে রাস্তাটি অল্প সময়েই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর আগে এ রাস্তা ঘেঁষে পুরনো পাইলট লাইন উপড়ে ফেলে নতুন রেললাইন স্থাপন কাজ শুরু হলে আরেক দফা ভেঙে পড়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানের অংশ। সংস্কারের জন্য রেলওয়েকে একাধিকবার চিঠিও দিয়েছে ঈশ্বরদী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ঈশ্বরদী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার বিশ্বাস জানান, প্রকল্প থেকে এই সড়কটি ইতোমধ্যে সার্ভে হয়ে গেছে। বর্ষা কেটে গেলে অল্পদিনের মধ্যে রাস্তা নির্মাণের জন্য টেন্ডারের ব্যবস্থা করা হবে।

ঈশ্বরদী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনে অনধিক ২০ টন ওজন ধারণ ক্ষমতা। অথচ এ রাস্তায় প্রতিদিন বালুবাহী ড্রামট্রাক অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচল করে ফলে রাস্তাটি নির্ধারিত সময়ের আগেই ভেঙে গেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে