শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা আরজিনা দীর্ঘ সাত বছর ধরে জটিল কিডনি রোগে ভুগছেন। বর্তমানে তার দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিডনি প্রতিস্থাপনই এখন তার বেঁচে থাকার প্রধান আশা। তবে সেই পথেও দেখা দিয়েছে বড় বাধা। মেয়েকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে চাইলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় মাএকসময় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসারে অবদান রাখতেন আরজিনা। কিন্তু দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় এখন আর কোনো কাজ করার মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের সঞ্চয় শেষ করেছেন। এমনকি কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। এরপরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তা নিয়মিত করাতে পারছেন না। নির্ধারিত দিনে ডায়ালাইসিস করাতে না পারার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আরজিনা। তিনি বলেন, অর্থের অভাবে অনেক সময় চিকিৎসাই বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
আরজিনার স্বামী একজন ভ্যানচালক। তার সামান্য আয়ে সংসার চালানোই কঠিন। ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তিনি ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামে বিধবা মা আফরোজা বেগমের বাড়িতে বসবাস করছেন। মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে দিশেহারা আফরোজা বেগম। কীভাবে মেয়েকে বাঁচাবেন, সেই চিন্তায় দিন কাটছে তার। স্থানীয়দের মতে, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এবং দেশ-বিদেশের হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এলে আরজিনার কিডনি প্রতিস্থাপন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে।য়ের কিডনির সঙ্গে আরজিনার কিডনির মিল পাওয়া যায়নি।