অপপ্রচারে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা যাবে না: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
অপপ্রচারে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা যাবে না: রিজভী
ছবি: সংগ্রহীত

জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, জ্বালানি সংকটের সময়ে বিরোধী দলের কর্মসূচি এবং বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি করা হচ্ছে। অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।

রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা খরচ হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে।

সম্প্রতি ডিজেলের দাম ২০ টাকা সমন্বয় করা হলেও সেই লোকসান পুরোপুরি কাটেনি বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, এখনো প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দামের তুলনাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি। এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ডিজেলের দাম কম রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়া-কমার প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, একদিকে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে, অন্যদিকে কোনো পণ্যের দাম কমবে, এটি অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ। কোনো দেশে কোনো পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি হলে তার প্রভাব অর্থনীতির অন্য ক্ষেত্রেও পড়ে।

আলোচনায় রংপুরের লংমার্চের প্রসঙ্গও তোলেন রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিরোধী দল প্রায় সাড়ে চারশো গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চে গেছে। এর মধ্যে কিছু গাড়ির টোল পরিশোধ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেও জনমনে ধোঁয়াশা তৈরির উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়েই বেশিরভাগ তেল আসে। মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে প্রতি লিটার ডিজেলে ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। অথচ বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রিজভীর অভিযোগ, এসব ঘটনার জন্য শুধু পতিত স্বৈরাচারকে দায়ী করা যায় না, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে। যারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লং মার্চের পাশাপাশি পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নেই। জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণার কারণে তারা চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসলামের নামে রাজনীতি করলেও রাজনৈতিক নীতি-নৈতিকতার বিষয়টি জামায়াত গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেন রিজভী। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘মুনাফেক’ শব্দের উল্লেখ করে তার বক্তব্য তুলে ধরেন এবং বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণেই জামায়াত কখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

রিজভী আরও অভিযোগ করেন, দেশের জনস্বার্থে এবং জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব জাতীয়তাবাদী আন্দোলন হয়েছে, সেগুলোর বিরোধিতা করেছে জামায়াত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অপপ্রচারের ঘেরাটোপের মধ্যে সরকারের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। ব্যাংক লুটপাট হয়নি, বরং ব্যাংকিং খাত গোছানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান অভিযোগ করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, এনসিপি ও জামায়াত একত্রে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।

রিজভী আরও বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি কোনো ধরনের বাধার মুখে না পড়াই প্রমাণ করে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি করতেই বিরোধী দল বিভিন্ন কর্মসূচি দিচ্ছে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান, জোটের মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্যরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে