বগুড়ার গাবতলীতে রেকর্ডভুক্ত রাস্তার মধ্যে গাছ ও ঘড় থাকায় সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত রাস্তা নির্মাণে বাধার সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এমপি মোরশেদ মিল্টন কথা বলার পরেও গাছ কাটানি টিটু সাকিদার, অবমুল্যায়ন করা হয় এমপির কথাকে। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের চকবেড়া গ্রামে। গাবতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এল জি ই ডি) অফিস সুত্রে জানাগেছে, স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর থেকে গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের কালুডাঙ্গা ছোব্বরের মোড় হতে চকবেড়া হারুনের বাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার পিচঢালা (কার্পেটিং) রাস্তা নির্মাণে কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবুল কাশেম ট্রেডার্স।
এই রাস্তায় নির্মাণ ব্যায় হবে ১ কোটি প্রায় ৭০ লাখ টাকা। ৬ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে ৪ মাস আগে কাজ শুরুর অনুমতিপত্র দিয়েছে গাবতলী উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এল জি ই ডি)। কাজ শেষ হতে আর ২ মাস সময় আছে ঠিকাদারের হাতে।
চকবেড়া গ্রামে রেকর্ডভুক্ত রাস্তার মধ্যে কয়েকটি গাছ সহ মিনহাজ সাকিদার ও ইমরান সাকিদারের ঘড়বেধে যায়। বিষয়টি নিয়ে দুর্গাহাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জুয়েল রানা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আমিন ও স্থানীয় শত শত গ্রামবাসীর উপস্থিততে চারজন জমি মাপযোগকারী (আমিন) দ্বারা মাপযোগ করে দেখতে পান, গাছগুলো সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তার মধ্যে ঘড়গুলো রাস্তার সোলডার ও বকচারের মধ্যে রয়েছে। সরকারি রাস্তা নির্মাণের স্বার্থে গাছকাটা ও ঘড় সড়িয়ে নেয়ার জন্য সিদ্ধান্তনেন উপস্থিত বিচারকগণ।
এব্যাপারে দুর্গাহাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) জুয়েল রানার সাথে কথা বললে তিনি জানান, গাছগুলো ও ঘড় সরকারি রেকর্ডকৃত রাস্তায় রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। সাজু মিয়া সহ চকবেড়া গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, রাস্তা নির্মাণের স্বার্থে সকলে একমত পোষন করলেও, সরকারি জায়গা থেকে গাছ কাটতে ও ঘড় সড়াতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় এলাকার টিটু সাকিদার নামে এক ব্যক্তি। তিনি বিভিন্নভাবে সরকারি রাস্তা নির্মাণে বাধাগ্রস্ত ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চকবেড়া গ্রামের ২০/২৫ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এমপি মোরশেদ মিল্টনের সাথে তার বাসায় সাক্ষাত করে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে রাস্তা নির্মাণের সহযোগিতা কামনা করেন। টিটু সাকিদার রাস্তা নির্মাণে বাধাগ্রস্ত করছে মর্মে এমপি মোরশেদ মিল্টন চকবেড়া গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেন। বিষয়টি এমপি মোরশেদ মিল্টন গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তাৎক্ষণিক টিটু সাকিদারকে ফোন দিয়ে রাস্তার মধ্যে থেকে গাছ কেটে নিয়ে সরকারি উন্নয়ন কাজে সহায়তা করার জন্য বলেদেন। এমপি কথা বলার পরেও রেকর্ডভুক্ত রাস্তা থেকে গাছগুলো কেটে নেয়া হয়নি। টিটু সাকিদারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, ফোন রিসিভ না করায়, তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাজেদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি রাস্তা নির্মাণে সকলের সহায়তা দরকার। কেউ সরকারি কাজে বাধা দিতে পারেনা। তিনি আরো জানান, সকল জমির মালিক সরকার, সেগুলো দেখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ্যাসিল্যান্ড।
সরকারি রাস্তার মধ্যে গাছ ঘড় যাই থাকুক সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা (এ্যাসিল্যান্ড) তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সেক্ষেত্রে কেউ অন্যায়ভাবে বাধা দিতে পারবে না। ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম জানান, গাছ কেটে নেয়া হলে দ্রুত রাস্তার কাজ সমাপ্ত করা হবে।