বোয়িং চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন, জামায়াত আমিরকে যা বললেন হুমায়ুন কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
বোয়িং চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন, জামায়াত আমিরকে যা বললেন হুমায়ুন কবির
ছবি: সংগ্রহীত

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাড়ানো ও বিমানবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে বিষয়টি না বুঝে কথা না বলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন হুমায়ুন কবির। বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে কোনো ‘লুকায়িত এজেন্ডা’ নেই বলেও জানান তিনি। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের বিমান চলাচল খাতের প্রয়োজন বিবেচনা করেই বহর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে বোয়িংয়ের বড় আকারের উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আসছে। ভবিষ্যতে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, ফ্লাইট বাড়ানো এবং বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে একটি মিশ্র উড়োজাহাজ বহর প্রয়োজন। এ কারণে বিমানবহর আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।

সম্প্রতি বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্রয়ের মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। চলতি বছরে বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট অর্ডার ২৫টি উড়োজাহাজে দাঁড়িয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের আরও উড়োজাহাজ প্রয়োজন। এভিয়েশন হাব হিসেবে দেশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও বিমান কেনা হতে পারে। তার ভাষ্য, বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত কোনো বাইরের চাপ বা অন্য কোনো গোপন উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি, দেশের প্রয়োজন বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকেও সার্থক বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের মাধ্যমে নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হুমায়ুন কবির জানান, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেন। ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়।

এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়েছে।

হুমায়ুন কবির আরও জানান, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সভা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার দাবি, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও আত্মমর্যাদাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

এদিকে বোয়িং কেনার চুক্তি নিয়ে এর আগে সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং দেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজন থেকেই অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি ঘোষণা করে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে তিনি ৯৯ ভোট পেয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে