দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৬৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ জনে। আর ১ জানুয়ারি থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৮২ হাজার ৭৬১ জন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটি স্বাক্ষর করেছেন কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৮০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৯৫ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে ৩৩৩ জন, বরিশালে ১৫১ জন, খুলনায় ১১১ জন, ময়মনসিংহে ৭৭ জন এবং রংপুরে ৭১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৩ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৮২ হাজার ৭৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৬ হাজার ৮৬২ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। শুধু সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। এই দীর্ঘ সময়ের হিসাবে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
একই বছর ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। ২০২৩ সালে এই রোগে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। ওই বছর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ।