রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

বেনাপোলে ব্যবসায়ী সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে দু-পক্ষের চরম উত্তেজনা

এফএনএস (মহসিন মিলন; বেনাপোল, যশোর) : | প্রকাশ: ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
বেনাপোলে ব্যবসায়ী সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে দু-পক্ষের চরম উত্তেজনা

বেনাপোল চেকপোস্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আজ বুধবার সকালে বেনাপোল চেকপোস্টে তাদের সংগঠনের অফিস কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিন বছরের মেয়াদে বেনাপোল চেকপোস্ট নামে একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যেখানে দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে। অথচ কাউকে কিছু না জানিয়ে বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত তার গ্রুপের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে হঠকারিতা ভাবে চেকপোষ্টে উপস্থিত হয়। পরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে পাল্টা চেকপোস্ট ব্যবসায়ী সংগঠন একটি কমিটি তৈরি করে দেন। তার এই হঠতাকারি সিদ্ধানে ক্ষুব্ধ ও হতবাগ হয়েছেন অনান্য ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল। এনিয়ে চেকপোস্ট এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে দু-পক্ষের মধ্যে। নতুন যে এই সংগঠনটি করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী ও হুন্ডি ব্যবসায়ী বলে সংবাদ সম্মেলেনে অভিযোগ করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আজিজুল জানান, প্রত্যেকটি সংগঠনের একটি গঠন তন্ত্র বা নিয়ম নীতি আছে কিন্তু তার কিছুই মানা হয়নি। যারা একাজটি ঘটিয়েছেন তারা এলাকায় নানান কারনে বিতর্কিত দলবাজ নেতা হিসেবে পরিচিত।

তিনি আরো বলেন,যদি কমিটির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকে তাহলে কমিটির যারা উপদেষ্টা বা নীতি নির্ধারক আছেন তারা কমিটির বর্তমান দায়িত্বে থাকা নেতাদের ডেকে অভিযোগ জানাতে পারতেন। যদি কমিটি  উপদেষ্টাদের আহবানে মিটিংয়ে না আসতে চাইতো  তখন এধরনের পদক্ষেপ নিতে পারতেন। এটি স্বৈরাচারি কায়দায় ক্ষমতা দেখিয়ে পাল্টা কমিটি দিয়েছেন। সাধারন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে সভাপতি বলেন, সাধারন ব্যবসায়ীরা যদি কমিটি পরিবর্তন চায় সেখানে বৃহৎ স্বার্থে আমরা দায়িত্ব হস্তান্তর করতে রাজি আছি। তবে সেটা নিয়ম,নীতি মেনেই করতে হবে। দলবাজি প্রভাব বিস্তার ব্যবসায়ী সংগঠনে মেনে নেওয়া হবেনা। কমিটির সহসভাপতি সাংবাদিক আনিসুর রহমান, আলী আশরাফ ও উজ্বল বিশ্বাস  জানান, কমিটির কোন পরিবর্তন করতে হলে সেটি বৈধ প্রক্রিয়ায় সব কিছু হবে। মনগড়া কারো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবেনা।   কমিটির উপদেষ্টা সাদিপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক ও  সেক্রেটারি আব্দুস ছাত্তার জানান, তারা এই কমিটির উপদেস্টা কিন্তু তাদের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন মনে করা হয়নি।  এতে আমাদের অসম্মান ও নিজেদের মধ্যে মতভেদ ও সংঘর্ষের পরিবেশ তৈরী করেছেন আবু তাহের ভারত।  এধররের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিএনপির উপর মহলে অভিযোগ জানানো হবে বলে জানান এই নেতারা। কমিটির উপদেষ্টা বড় আঁচড়া গ্রামের কৃতি সন্তান উপজেলা যুবদলের আহবাহক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম ও ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম চয়ন জানান,তারাও এ ব্যবসায়ী সংগঠনের উপদেষ্টা। তাদের চেকপোস্টে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু তারা  নতুন কমিটি গঠনের  বিষয়ে কিছুই জানতে পারলেন না। এটা নিয়ম নীতি উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী দলীয় নেতা,কর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিবে।

চেকপোস্টের ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন জানান, চলমান কমিটির নেতা,কর্মীরা কঠোর ভাবে চেকপোষ্টে যাত্রী হয়রানি ও ছিনতাই,প্রতারনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিত।কিন্তু মনগড়া নতুন এ কমিটি আবার চেকপোস্ট এলাকায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। সুতারং সমন্বয় করে কাজ করলে সেটি ব্যবসায়ীদের মঙ্গল হবে। এদিকে এ ধরনের হঠকারিতা মূলক মনগড়া কমিটির বাতিল দাবি জানিয়ে ক্ষোভ জানান কমিটির উপদেষ্টা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী সংগঠনের শতাধিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে