সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের মানুষকে জড়ো করার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ সময় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেও প্রথমে সংঘর্ষ থামাতে পারেনি। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর (ময়মনসিংহ হাটি) গ্রামের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ, উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে বীরজয়-লক্ষ্ণীপুর-ধুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কয়েকজন কিশোর ক্রিকেট খেলছিল। খেলার সময় মাঠ থেকে একটি বল সড়কে চলাচলকারী জালাল মিয়ার অটোরিকশার সামনের কাচে গিয়ে লাগে। এ নিয়ে অটোরিকশাচালকের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ আলীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে গড়ায়। এর জেরে রোববার রাতে তাহিরপুর বাজারে ধুতমা গ্রামের হান্নানের ছেলে জসিমের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ মিয়া, নবাব মিয়া, মানিক মিয়াসহ কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জসিমকে মারধর করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাফিজ মিয়াকে জয়নগর ও বীরনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে এশার নামাজের সময় বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, বুধবার সকালে গ্রামের সবাইকে যার কাছে যা আছে তা নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য। মসজিদের মাইকে দেওয়া ওই ঘোষণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে বুধবার দুপুরে বীরনগর, ধুতমা, জয়নগর ও লক্ষ্ণীপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তবে তাতেও তাৎক্ষণিকভাবে সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ থামে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত বীরনগর গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে আশিকনুর, আলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ও মাইনুদ্দিনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মধ্য তাহিরপুর (ময়মনসিংহ হাটি) গ্রামের মো. হারুন অর রশিদ (৫২), বাকারুল মিয়া (৫০), আজিম মিয়া (২৫), রমজান মিয়া (৩০), আবুল কালামসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সংঘর্ষের শুরু থেকেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’