আমিনুর ইসলামঃ বগুড়ার গাবতলীতে জোরপূর্বক জমি দখলের বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেও পুলিশ ডাকার পরেও বিবাদীগন থানায় উপস্থিত না হওয়ায় বিচার পাচ্ছেনা ভুক্তভোগী এক নারী।
উল্টো বিবাদীরা আরো জমি দখল করাসহ বিভিন্ন হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ওই নারীকে। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার নারুয়ামালা ইউনিয়নের মধ্যকাতুলী গ্রামে। গাবতলী মডেল থানায় মধ্যকাতুলী গ্রামের মোঃ আনছার আলীর মেয়ে মোছাঃ মাহমুদা বেগম বাদি হয়ে অভিযোগে বলেছেন, বাদীনিসহ ৪ বোন, তাদের সকলের বিয়ে হয়েছে। তাদের কোনভাই নেই। তাদের বৃদ্ধ পিতা মাতা ৪ বোনের নামে জমি রেজিষ্ট্রী করিয়া দেয়।
একই গ্রামের পিতা মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে বিবাদি মোঃ আব্দুস সালাম, মোঃ আব্দুল ওহাব, মোঃ ওয়াজেদ, মোঃ ইব্রাহীম, মোঃ সুমন
সম্পর্কে বাদিনির ফুফাতো ভাই।
উক্ত বিবাদীগন ইতিপূর্বে বাদিনি মাহমুদা বেগমের পিতার বসতবাড়ীর মধ্যে ৩/৪ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। উক্ত জমি দখলের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকভার শালিস বৈঠক হলেও বিবাদীরা বাদিনির পিতার বসতবাড়ীর জমির দখল ছাড়েনি। উক্ত বিবাদীগন উল্টো আরো জমি দখলের হুমকি দিয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৯ টায় বাদিনি মাহমুদা বেগমের পিতার অনুপস্থিতে পিতার বাড়ীর সামনে গিয়ে উক্ত বিবাদীগন
লাঠি সোটা নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে। এসময় বাদিনীর মা প্রতিবাদ করিলে বিবাদীগন মারপিট করার জন্য তেড়ে আসে। বিবাদীগন হুমকি দিয়ে বলে যে, বসতবাড়ীর জাগয়া দখল করিয়াছি আরোও জমি দখল করিব। এতে বাদিনীর পিতা-মাতা সহ কেহ যদি বাধা দেয়, তাহলে মারপিট করিয়া খুন করিবে মর্মে প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হুমকি দিয়ে যায়। বিবাদিদের হুমকির কারনে বাদিনির মা প্রানভয়ে বাড়ীর মধ্যে গিয়া অবস্থান করে।
এব্যাপারে থানায় মাহমুদা বেগম বাদী হয়ে প্রায় এক মাস আগে উপরোক্ত বিবাদিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এস আই মুক্তা বেগম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কয়েকবার থানায় উভয় পক্ষকে ডাকলেও, বিবাদিগন থানার কথাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপস্থিত হয়নি।
এব্যাপারে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিব হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা থেকে ডাকার পরেও বিবাদী গন উপস্থিত না হন, তাহলে বাদিনি আদালতের মাধ্যমে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।
অভিযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এস আই মুক্তা বেগম ছুটিতে থাকায় তার মতামত নেয়া যায়নি। বাদিনি মাহমুদা বেগম জানান, এলাকার কতিপয় দালাল শ্রেণির লোক বিষয়টি সমাধান করতে দিচ্ছেনা। তারা বিবাদিদের অন্যায় কাজে উৎসাহ দিচ্ছে। তিনি এবিষয়ে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলেও জানান।