নীলফামারীর সৈয়দপুরে দায়িত্ব পালনকালে মই থেকে পড়ে হায়দার আলী (৪৭) নামে এক বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১২অক্টোবর) উপজেলার নিয়ামতপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সৈয়দপুর-দিনাজপুর সড়কের পাশে ইউনিক অটো রাইস মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত হায়দার আলী নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সৈয়দপুর সরবরাহ ও বিতরণ কেন্দ্রের ঠিকাদার নিয়োজিত লাইন হেলপার ছিলেন। তিনি সৈয়দপুর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রধান ফটকের বিপরীতে সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়কসংলগ্ন ওয়াপদা নতুনহাট এলাকার মৃত জোনাব আলীর ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউনিক অটো রাইস মিলের সামনের একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের সংযোগে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে অফিসের নির্দেশে ওই স্থানে এলটি (লো-টেনশন) সংক্রান্ত কাজ করতে মিস্ত্রি রাশেদের সঙ্গে যান হায়দার আলী। কাজ করার সময় রাশেদ মইয়ের ওপর উঠে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় তাকে তার কাটার যন্ত্র পৌঁছে দিতে একই মই বেয়ে ওপরে উঠতে থাকেন হায়দার।
মইয়ের মাঝামাঝি ওঠার পর হঠাৎ নিচে পাকা সড়কের ওপর পড়ে যান তিনি। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে মিস্ত্রি রাশেদ ও স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে নেসকো সৈয়দপুর সরবরাহ ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, হায়দার আলী ঠিকাদারের অধীনে লাইন হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক লাইন সম্পূর্ণ বন্ধ (শাটডাউন) ছিল। তিনি নিচে অবস্থান করে ওপরের মইয়ে কর্মরত মিস্ত্রি রাশেদকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে সহযোগিতা করছিলেন। একপর্যায়ে যন্ত্রপাতি পৌঁছে দিতে মইয়ের মাঝামাঝি ওঠার সময় তিনি নিচে পড়ে যান। শক্ত পাকা সড়কে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।