সরকারি কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেও চাঁদপুর মেঘনা নদীতে থেমে নেই অসাধু জেলেদের মা ইলিশ শিকার। নিষেধাজ্ঞার সময়েও জেলার বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে নিধন করা হচ্ছে প্রজননক্ষম মা ইলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাইমচর থেকে শুরু করে চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার মেঘনা নদীর অংশ এবং শরীয়তপুর জেলার চাঁদপুর নৌ-সীমানাবর্তী এলাকায় দিন-রাত সমানতালে চলছে অবৈধ ইলিশ শিকার। একশ্রেণির লোভী ও অসাধু জেলে আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে নদী চষে বেড়াচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ প্রতিনিয়ত নদীতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার গত ৮ দিনে নদীপথের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে বহু অসাধু জেলেকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও মাছ ধরার নৌকা জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটককৃত অসাধু জেলেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারকৃত প্রজননক্ষম ইলিশ মাছ স্থানীয় এতিমখানা ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে এবং জব্দকৃত অবৈধ কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। তবে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সের সার্বক্ষণিক টহল সত্ত্বেও অসাধু চক্রটির তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল ও সীমানাবর্তী এলাকাগুলোতে অভিযান শেষ হওয়া মাত্রই জেলেরা পুনরায় নদীতে নেমে পড়ছে। এতে জাতীয় সম্পদ ইলিশের প্রজনন ও অভয়াশ্রম সুরক্ষা চরম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশীয় ইলিশের বংশবৃদ্ধি ও রাজস্ব সুরক্ষায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান কঠোরভাবে পরিচালনা করা হবে। কোনো অসাধু জেলে বা চক্রকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং নদীতে সার্বক্ষণিক যৌথ বাহিনীর স্পিডবোট ও টহল জোরদার থাকবে।
চাঁদপুর জেলা টাস্কফোর্সের অভিযান রিপোর্টে জানানো হয়, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি. তারিখে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এর নের্তৃত্বে সদর উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মির্জা ওমর ফারুক ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় ভোর ৪ টা হতে সকাল ৯টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহর নদী মোহনা, আনন্দবাজার,দাসাদী, লালপুর, আমিরাবাদ ও হরিনা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা কালীন হরিনা এলাকা হতে ২ জন অসাধু জেলে আটক হয়। আটক জেলেদের ২ টি মোবাইল কোর্ট বসিয়ে ২ জনকে ১৪ দিনের জেল ও জন প্রতি ২৫০/- টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত ৩০০০ মিটার কারেন্ট জাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। ৩ কেজি ইলিশ দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।