সাতক্ষীরায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তিন দফায় হামলা ও পিটিয়ে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার রাতে কালীগঞ্জের ফরিদপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় পুলিশ ও বিজিবি/আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হন। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম নিশ্চিত করেছেন, রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ফজলুল হক আমিনী দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কারী রুহুল আমিনের ছেলে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে দেবহাটা থানায় মামলা করেন নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। নিহত শামীমের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ফজলুল হক আমিনীকে এই মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই সুবর্ণবাদ গ্রামের মোক্তার আলী (৫২) এবং শুক্রবার সকালে নাজিরের ঘের এলাকা থেকে আছাদুল ইসলাম মোল্লাকে (৪৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার স্থানীয় জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম হাজি ও সামাদ মণ্ডলের নেতৃত্বে একদল লোক দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামে শামীমের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িঘর ভাঙচুরের পর শামীমকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের চেম্বারে নেওয়া হয়। সে সময় 'খেদমতে খালক ফাউন্ডেশন'-এর সদস্য ফজলুল হক আমিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে শামীমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেন।
পরবর্তী সময়ে গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরদিন ফজলুল হক আবারও ফেসবুক লাইভে এসে শামীমের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য প্রকাশ করেন এবং লোকজনকে সেখানে জড়ো হওয়ার উসকানি দেন। এর কিছুক্ষণ পর একদল লোক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢ়ুকে শামীমকে দ্বিতীয় দফায় বেধড়ক মারধর করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে শামীমকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তবে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক আরাফাত হোসেন জানান, ভোঁতা ও ভারী বস্তুর আঘাতে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই শামীমের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শাহীন জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায় এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। শামীমের বাড়িতে ভাঙচুর ও একাধিকবার হামলার তথ্য সত্য। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তারের আগে ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনী দাবি করেছিলেন, শামীম বেশ কিছু দিন ধরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আসছিলেন, যার জেরে ক্ষুব্ধ জনতা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।