ডিভাইসে হাত রাখলেই রোগ নির্ণয়, চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম; বাবুগঞ্জ, বরিশাল) : | প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
ডিভাইসে হাত রাখলেই রোগ নির্ণয়, চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ

ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের দাবি। ব্যবস্থাপত্রে নামের আগে ‘ডা.’ লিখে চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞতার প্রচার। এভাবেই প্রায় ১৫ বছর ধরে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখে আসছিলেন আলীমুল ইসলাম (৪৮)। 

তবে চিকিৎসক হিসেবে বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়েছেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও কাগজপত্র। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে শনাক্ত করে উপজেলা প্রশাসন। চোখের সমস্যা ও মাথাব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আলীমুল ইসলামের কাছে এসেছিলেন সালেহা বেগম। এক দালালের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, কলেজ গেট এলাকায় এমন একজন চিকিৎসক রয়েছেন, যিনি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেন। সেই কথায় বিশ্বাস করে তাঁর কাছে যান সালেহা। পরে জানতে পারেন, চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির যোগ্যতা ও কাগজপত্র নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। সসালেহা বেগমের মতো সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে আলীমুল ইসলামের বিরুদ্ধে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলীমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখে আসছিলেন। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকাতেও নিয়মিত রোগী দেখতেন তিনি। তাঁর ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে ‘ডা.’ ব্যবহার করা হতো। সেখানে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য উল্লেখ ছিল। মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জিজনিত রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলেও দাবি করতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের কথা বলে রোগীদের চিকিৎসা দিতেন আলীমুল ইসলাম। তবে তাঁর দেখানো যোগ্যতার সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

যেভাবে ধরা পড়লেন অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে এনএমএস ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) তামিম মল্লিক ও মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী বলেন, খবর পেয়ে ইউএনওর সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলীমুল ইসলামের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তাঁর দেখানো কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছিল। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখানোর অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালানো হয়। আলীমুল ইসলাম ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে ‘ডা.’ ব্যবহার করলেও বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছেন বলে স্বীকার করেছেন।

ইউএনও আরও বলেন, তাঁকে প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।  অভিযানে চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিভাইস ও ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। আলীমুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে