ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো অসহায় রুনা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক ও সমাজসেবামূলক সংগঠন সদর উদ্দিন ফাউন্ডেশন। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহানো রুনা বেগমের কষ্ট লাঘবে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি হুইলচেয়ার উপহার দিয়েছেন সংগঠনটির পরিচালক ও সাংবাদিক শিপলু জামান।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) জুম্মাবাদ দুপুর ২টার সময় কালীগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর রাখালগাছি ইউনিয়নের হাসানহাটি গ্রামে রুনা বেগমের নিজ বাড়িতে হুইলচেয়ারটি পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসান হাটি পূর্ব দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোঃ ইয়াসিন মোল্লা, সাংবাদিক শাহিনুর রহমান পিন্টু, রিয়াদ হোসেন সহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রুনা বেগম তাঁর দুই পা হারান। একই দুর্ঘটনায় তাঁর স্বামী ইসমাইল হোসেনও একটি পা হারান। এরপর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে তাঁদের জীবনসংগ্রাম।
বর্তমানে এক পা হারিয়েও ইজিবাইক চালিয়ে কোনোমতে সংসারের খরচ জোগাচ্ছেন ইসমাইল হোসেন। অন্যদিকে দুই পা হারানো রুনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরায় চরম কষ্ট ভোগ করছিলেন। একটি হুইলচেয়ারের অভাবে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও তাঁকে অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হতো।
এ বিষয়ে সদর উদ্দিন ফাউন্ডেশনের পরিচালক সাংবাদিক শিপলু জামান বলেন, ‘আমার প্রয়াত পিতা মহরম সদর উদ্দিনের নামে এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমরা নিজেদের অর্থায়নে বিভিন্ন সময় অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পা হারানো রুনা বেগমের একটি হুইলচেয়ারের প্রয়োজনের বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর তাঁর কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়ার উদ্যোগ নিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে অনেক অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব। সদর উদ্দিন ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’
দীর্ঘদিনের কষ্টের মধ্যে একটি হুইলচেয়ার পাওয়ায় রুনা বেগমের চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে সদর উদ্দিন ফাউন্ডেশনের এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তাঁরা।