চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত স্বজনদের বাধা ও স্থানীয় পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে পারিবারিক গোরস্থানের পরিবর্তে নিজ বাড়ির আঙিনায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের কুলশী মিয়াজী বাড়িতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। নিহত নুরুল ইসলাম মিয়াজী ওই এলাকার বাসিন্দা। তিনি রোববার সকাল ১১টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, নুরুল ইসলাম মিয়াজীর মৃত্যুর পর স্বজনেরা তাঁর দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। রোববার বাদ আসর তাঁর জানাজা ও দাফন হওয়ার কথা ছিল। তবে একই বাড়ির প্রবাসী মো. আলমের পরিবার পারিবারিক কবরস্থানে দাফনকাজে বাধা দেয়। খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা বা সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মৃত নুরুল ইসলামের পরিবার বাধ্য হয়ে বাড়ির আঙিনায় তাঁর দাফন করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে রোববার বাদ এশা পারিবারিক উদ্যোগে নিজ বাড়ির আঙিনাতেই তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়। মৃত নুরুল ইসলামের ভাগিনা খোকন পাটোয়ারী আক্ষেপ করে জানান, তাঁর মামার কোনো ছেলেসন্তান নেই, কেবল ৫টি মেয়ে রয়েছে। তাঁদের পূর্বপুরুষদের সবার দাফন ওই পারিবারিক গোরস্থানেই সম্পন্ন হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ না করার জন্যই তাঁরা বাধ্য হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাফনের সিদ্ধান্ত নেন। নিহতের ভাতিজা মাহবুবুর আলম বলেন, “এটি আমাদের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক গোরস্থান। মো. আলম কিছুদিন আগে সম্পত্তির জন্য আদালতে একটি মামলা করলেও আদালত এখনো এ বিষয়ে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা রায় প্রদান করেননি।” অন্যদিকে, মুঠোফোনে সম্পত্তি দাবির বিষয়টি স্বীকার করে প্রবাসী মো. আলম বলেন, “এই জমি নিয়ে পাকিস্তান আমল থেকেই বিরোধ চলে আসছে। মৃত নুরুল ইসলাম জীবিত অবস্থায় তাঁকে আক্রমণ করতে এসেছিলেন এবং তাঁর ক্ষেতের ধান নষ্ট করেছিলেন। সে কারণেই তিনি বিষয়টি মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করতে পারেননি।”পারিবারিক কবরস্থানে একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের দাফন নিয়ে এমন বিরোধ ও শেষ পর্যন্ত বাড়ির আঙিনায় দাফন করার ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আইনগত বা জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে, তবে একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর শেষ বিদায়ে ও দাফনে এমন বাধা দেওয়া অত্যন্ত অমানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।