কিশোরগঞ্জে মৃত ভাতাভোগীদের নামে কোটি টাকা লোপাট

এফএনএস (আব্দুর রাজ্জাক, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
কিশোরগঞ্জে মৃত ভাতাভোগীদের নামে কোটি টাকা লোপাট

আকলিমা বেগমের মৃত্যু হয়েছে ১২/১৩ বছর আগে। বয়স্ক ভাতাভোগীর তালিকায় এখনো তার নাম রয়েছে। পরিবারের লোকজন জানেন না তিনি বয়স্ক ভাতার তালিকাভুক্ত ছিলেন। এছাড়া অনেকের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে তার ভাতার টাকা অন্য কেউ আত্মসাত করছেন। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে এ রকম প্রায় দেড় হাজার মৃত ভাতাভোগী ব্যক্তি সনাক্ত হয়েছে। একটি চক্র সমাজসেবা দপ্তরের যোগসাজশের এসব ভুয়া ভাতাভোগীদের নামে কোটি টাকা লোপাট করেছে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলায় মোট ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ৮৭২ জন। বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগীগণ প্রতিমাসে ৭০০ টাকা ও প্রতিবন্ধীরা মাসে ১ হাজার করে টাকা পান। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীকে মোবাইল ব্যাংককিং এর মাধ্যমে টাকা দেন সরকার। তবে উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের যোগসাজশে একটি চক্র ভুয়া ভাতাভোগী তালিকাভুক্ত করেন। অন্যের মোবাইল নম্বর দিয়ে ভাতার টাকা উত্তোলন করে তারা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। সম্প্রতি ইউএনওর উদ্যোগে উপকারভোগী যাচাই করলে ১ হাজার ৪৭২জন মৃত ভাতাভোগী সনাক্ত হয়। 

বয়স্ক ভাতার তালিকাভুক্ত মৃত আউয়াল মামুদের কন্যা মৃত ওই আকলিমা বেগমের বাড়ি সদর ইউনিয়নের বাজেডুমরিয়া গ্রামে। তার স্বামী সুলতান আলী বলেন, আমার স্ত্রীর মৃত্যুর একযুগ পর আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় তার নাম রয়েছে। কারা গোপনে ভাতার তালিকায় নাম দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার ভাতার টাকা আত্মসাত করেছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে টাকা ফেরতসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 

চাঁদখানা ইউনিয়নের বগুলাগাড়ি গ্রামের কেল্লাবাড়ির মৃত পনির উদ্দিনের নাম বয়স্ক ভাতার তালিকাভুক্ত। তার ছেলে আহসান হাবিব জানান, ২০১৯ সালে তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের কেহ জানেন না তার নামে বয়স্ক ভাতার তালিকায় রয়েছে। এতদিন কার মোবাইল নম্বরে আমার বাবার ভাতার টাকা দিয়েছে, উৎঘাটন করা দরকার। ইউপি মেম্বর-চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা অফিসের যোগসাজশে এমন দুর্নীতি হয়েছে। 

একই গ্রামের বাবু পাড়ার মৃত রঘুনাথ রায়ের মেয়ে ভাগ্য রাণী (৭৫) ও মৃত কৃপানাথের স্ত্রী মোহনী বালা (৭৭) এর নাম বয়স্ক ভাতার তালিকাভুক্ত। কিন্তু তারা জানেন না, কত বছর ধরে তাদের নাম বয়স্ক ভাতাভোগীর তালিকায় রয়েছে। কিন্তু সমাজ সেবা অফিস অন্যের মোবাইল নম্বরে তাদের ভাতার টাকা দেয়। এখন জানতে পেরে তারা দীর্ঘ দিন ধরে তাদের নামে বরাদ্দের সম্পূর্ণ ভাতার টাকা ফেরত চায়। 

এছাড়া বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি বসুনিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ ৭ বছর আগে মারা গেছেন। বড়ভিটা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত মোসলেম খা’র ৫ বছর আগে মৃত্যু হয়েছে। পুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন হাজিপাড়া গ্রামের মৃত ধউলী বেগমের (৭২) ৪ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। উপজেলার প্রত্যেক গ্রামে এরকম অসংখ্য মৃত ব্যক্তির নাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় রয়েছে। কিন্তু এদের অনেকের পরিবারের জানেন না, কারা সেই মৃত ব্যক্তির ভাতার টাকা আত্মসাত করছে।         

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, ভাতার টাকা পান না, কিন্তু তালিকায় নাম রয়েছে এমন ঘটনায় তার অফিসের বা অন্য কেহ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাতাভোগী মৃত্যুর পর ১২-১৩ বছর পর্যন্ত তার নাম তালিকাভুক্ত থাকার দায় ইউনিয়ন কমিটির। উপকারভোগী কেন জানেন না তার নাম ভাতার তালিকায় রয়েছে। তিনি এর কোন সদুত্তর দিতে পরেননি।      উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান জানান, যাচাইয়ে প্রায় দেড় হাজার মৃত ভাতাভোগী সনাক্ত হয়েছে। বিধি অনুযায়ী প্রতিস্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মৃত ভাতাভোগীদের তথ্যাদি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে অন্যের ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে