এইচএসসিতে পাসের হার কমে ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
এইচএসসিতে পাসের হার কমে ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার
ছবি: সংগ্রহীত

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার পাসের হার কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলও একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। এর আগে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের কথা থাকলেও পরে তারিখ পরিবর্তন করে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।

গত ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে এসব পরীক্ষা নেওয়া হলে ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

ফল জানবেন যেভাবে
পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ছাড়াও দুটি কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে ফল দেখতে পারবেন। ওয়েবসাইট দুটি হলো eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd। এসব ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফল দেখা যাবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও একই ওয়েবসাইট থেকে ফল ডাউনলোড করতে পারবে। এ জন্য ওয়েবসাইটের ‘Result’ বিভাগে গিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর দিতে হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমেও ফল জানার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজিতে HSC লিখে একটি স্পেস দিতে হবে। এরপর শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীকে ‘HSC DHA 123456 2026’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। এখানে ‘DHA’-এর জায়গায় নিজ বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর এবং ‘123456’-এর জায়গায় নিজের রোল নম্বর বসাতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড বা পত্রিকা অফিসে সরাসরি ফল পাওয়া যাবে না। ফল জানতে অনলাইন, খুদে বার্তা কিংবা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে হবে।

উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
প্রকাশিত ফলে কোনো পরীক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে