সত্য প্রকাশ করলে অভিযোগ ওঠে, সাংবাদিক টাকা পাননি। আর অনিয়মের খবর প্রকাশ না করলে বলা হয়, সাংবাদিকের মাসিক বরাদ্দ আছে! এমনই এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি দখল,বেহাত এবং সরকারি,ওয়াফফ স্টেটের জমি ক্রয়ের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে।
সৈয়দপুরে রেলওয়ের জমি দখল করে কোথাও গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, কোথাও বিশাল মার্কেট, আবার কোথাও নির্মাণ করা হয়েছে মালামাল রাখার গোডাউন। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কেউ কেউ রেলওয়ের জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছেন, আবার কেউ জমির পজেশন বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন। অথচ এসব স্থাপনা নির্মাণের সময় রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগের কার্যকর তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অনেকের অভিযোগ।
অন্যদিকে, রেলওয়ের জমিতে মাথা গোঁজার ঠঁাই হিসেবে ছোট্ট একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করলেও অসহায় ভূমিহীনদের উচ্ছেদের মুখে পড়তে হয়। জীবিকার তাগিদে রেললাইনের পাশে কিংবা আশপাশে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনাকারীদেরও সময়ে-অসময়ে উচ্ছেদ করা হয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, রেলওয়ের জমি ব্যবস্থাপনায় আইনের প্রয়োগ কি সবার ক্ষেত্রে সমান?
স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে প্রভাবশালীদের দখলে একের পর এক স্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠছে, অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের সামান্য আশ্রয় কিংবা জীবিকার অবলম্বনটুকুও টিকতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে রেলওয়ের জমি রক্ষায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের দাবি, সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় ৫০০ একর জমি বেহাত হয়ে আছে। বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকল, কারা এসব জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলেন এবং এর পেছনে দায়িত্বশীল কারও গাফিলতি বা যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
সৈয়দপুরে রেলওয়ের ভূসম্পত্তি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন একজন কানুনগো। তবে তিনি কর্মস্থল হিসেবে পার্বতীপুর অফিসে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে। রেলওয়ের জমি বেহাতের প্রকৃত পরিমাণ, অবৈধ দখলদারদের তালিকা, দখলমুক্ত করার উদ্যোগ এবং এ পর্যন্ত নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে তঁার কাছ থেকে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রেলওয়ের জমি দখল ও অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা অপবাদ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। সত্য তুলে ধরলে বলা হয়, সাংবাদিক টাকা পাননি বলেই লিখেছেন। আবার কোনো কারণে সংবাদ প্রকাশ না হলে অভিযোগ করা হয়, সাংবাদিক মাসিক সুবিধা পান। এ ধরনের অপপ্রচার মূলত প্রকৃত অনিয়মের বিষয়টি আড়াল করার অপচেষ্টা কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ের ঐতিহ্য, সম্পদ ও বিপুল পরিমাণ ভূমি রক্ষায় দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, বেহাত জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা জরুরি। একই সঙ্গে জমি রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। সেই সম্পদ দখল হয়ে গেলে দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, রেলওয়ের শত শত একর জমি বেহাত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?
এদিকে আহম্মেদ উড কোম্পানি সরকারি জায়গা,পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা এবং মসজিদ ও মাদ্রাসার ওয়াফফ স্টেজ জায়গা নিয়েছেন। কোম্পানি কিভাবে এ সকল জায়গা নিল তা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে এলাকাবাসীর কাছে।