গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ যেন সবুজ চাদরে ঢাকা। চারিদিকে সবুজের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ জুড়ে দোল খাচ্ছে বোরো ধানের সবুজ গাছ। পলাশবাড়ী পৌরসভাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে এ বছর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ব্যাপক পরিসরে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভালোভাবেই চারা রোপণ শেষ হয়েছে। এখন ফসলের পরিচর্যা, সেচকার্য, আগাছা দমন ও সার প্রয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিজিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠে, সুশৃঙ্খল সারিতে দাঁড়িয়ে আছে ধানগাছ। কোথাও কৃষক সেচ দিচ্ছেন, কোথাও আগাছা পরিষ্কার করছেন। আবার কেউ কেউ জমিতে সার ছিটাচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন নারী-পুরুষ। গ্রামীণ জনপদের বিস্তৃর্ণ মাঠে এখন যেন বোরো মৌসুমের কর্মচাঞ্চল্য।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১টি পৌরসভাসহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নে মোট ১২ হাজার ৬৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান ঢাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৫৮ হাজার ৫৮২ মে. টন।
সময়মতো বীজতলা প্রস্তুত ও চারা রোপণ শেষ হওয়ায় গাছের বৃদ্ধি এখন ভালো রয়েছে। চারা রোপণের সময় আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং শীতের তীব্রতা কম থাকায় চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কম ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারের বোরো মৌসুমে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি, সবমিলিয়ে কৃষকদের ব্যয় এখন অনেক বেশি। তারপরও তারা আশা করছেন এবার ভালো ফসল পাবেন। পাবেন ভালো দামও।
কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সগুনা গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘এবার সময়মতো জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ করতে পেরেছি। বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত গাছের অবস্থা ভালো। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও সার প্রয়োগ করছি। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে ভালো ফলন পাবো বলে আশা করছি।’
তিনি আরও জানান, সার ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বাজারে ধানের দাম কম হলে কৃষকের কষ্ট বাড়বে।
পৌরশহরের শিমুলিয়া গ্রামের মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘জমিতে এখনো তেমন রোগবালাই দেখা যায়নি। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় সার দিচ্ছি। জমিতে পানি ধরে রাখার দিকেও নজর দিচ্ছি। গত বছর ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছিল। এবার আরও ভালো ফলনের আশা করছি।’ তিনি বলেন, কৃষকরা এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তিত সারের দাম, সেচ খরচ ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, চারা রোপণের পর প্রথম দিকে ঠান্ডা ও কুয়াশা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। এখন গাছ দ্রুত বেড়ে উঠছে। তবে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক অধিক চাপের মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ সন্তোষজনক। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে জমি পরিদর্শন করছেন। সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ, আগাছা দমন ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনায় আমরা সচেতনতা বাড়াচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, কোনো জমিতে রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।