জনগণের রায় থাকার পরও সংবিধান সংস্কারে শপথ না নিয়ে পুরোনো রাজনৈতিক ধারা অনুসরণ করছে বিএনপি, এমন মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, এতে করে আবারও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন কেন অপরিহার্য?’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “মনে হচ্ছে, বিএনপি পুরোনো পথেই হাঁটছে। পুরোনো পদ্ধতিতে হাঁটলে নতুন গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে না, এটা সুস্পষ্ট।” তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে যে প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনা দানবে পরিণত হয়েছেন, সেই একই কাঠামো ও প্রতিষ্ঠান বজায় থাকলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং আরও কিছু নিয়ে টালবাহানা চলছে। এর পেছনে জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার বিষয়টি প্রভাব ফেলছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, “ইতিহাস বলে, দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের কিংবা জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনি।”
জুলাই জাতীয় সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে সুজন সম্পাদক বলেন, “এই সনদ জনগণের রায়ের প্রতিফলন, এটিই চূড়ান্ত কথা। এতে কোনো যদি বা কিন্তুের সুযোগ নেই।” তিনি কোনো অজুহাত না দেখিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সাবেক বিচারপতি এম এ মতিন। এছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহানসহ অন্যান্যরা।