খাগড়াছড়িতে বর্ণিল সাংগ্রাই: জলকেলিতে মাতোয়ারা মারমা সম্প্রদায়

এফএনএস (মোবারক হোসেন; লক্ষ্ণীছড়ি, খাগড়াছড়ি) : | প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
খাগড়াছড়িতে বর্ণিল সাংগ্রাই: জলকেলিতে মাতোয়ারা মারমা সম্প্রদায়

পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবে মেতেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় উৎসবের দ্বিতীয় দিনে খাগড়াছড়িতে জাঁকজমকভাবে উদযাপিত হচ্ছে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ।

মঙ্গলবার সকালে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। খাগড়াছড়ির পানখাইয়া উন্নয়ন সংসদ মাঠ থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ‘রি-আকাজা’ বা জলকেলি। “সকল দুঃখ গ্লানি মুছে যাক, সবখানে নবপ্রাণ ফিরে পাক”স্লোগানে অনুষ্ঠিত এ পানি উৎসবে অংশ নিয়ে তরুণ-তরুণীরা আগামী দিনের সুখ-শান্তি কামনা করেন। জলকেলির আনন্দে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও রঙিন।

উৎসবে অংশ নেওয়া এক মারমা তরুণী বলেন, সারা বছর আমরা এই উৎসবের জন্য অপেক্ষা করি। গত দুই বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে আয়োজন বন্ধ থাকায় এবার আনন্দটা আরও বেশি। বন্ধুদের সঙ্গে জলকেলিতে অংশ নিয়ে দারুণ সময় কাটছে।

এদিকে সাংগ্রাইসহ বৈসাবি উৎসবকে ঘিরে খাগড়াছড়িতে বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা উপভোগ করছেন পাহাড়ি সংস্কৃতির এই অনন্য আয়োজন। পর্যটক শান্তা পাল জানান, “প্রথমবার সাংগ্রাই উৎসবে অংশ নিলাম। এত সুন্দর ও রঙিন আয়োজন সত্যিই মুগ্ধ করেছে।”

মারমা ভাষার কবি চিংলামং চৌধুরী বলেন, এই পানি উৎসবের মাধ্যমে অতীতের সব দুঃখ-গ্লানি ও পাপ ধুয়ে যায়-এমন বিশ্বাস মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত। সাংগ্রাই তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব হলেও এর সঙ্গে ধর্মীয় অনুষঙ্গও জড়িত।

দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে আসা এই উৎসব ঘিরে খাগড়াছড়ির পাহাড়ে এখন আনন্দ, ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে