দরগাহপুরে ভিন্ন ব্যক্তির কার্ডে চাউল না দেওয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
দরগাহপুরে ভিন্ন ব্যক্তির কার্ডে চাউল না দেওয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর ইউনিয়নে ভিন্ন ব্যক্তির কার্ডে ১৫ টাকা কেজির চাউল দিতে অস্বীকৃতির ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগি ডিলার।

দরগাহপুর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ডিলার হাবিবুর রহমান বাবু জানান, তার ৬০২ জন কার্ডধারীকে চাউল বিতরনের দায়িত্ব। রোববার (১২ এপ্রিল) কালাবাগী বাজারে গোডাউন থেকে চাউল বিতরন করা হয়। সরকারি বিধিবিধান মেনে চাউল বিতরনের সময় প্রায় অর্ধেক চাউল বিতরনের পর ঝর্না খাতুন নিজের কার্ডসহ ৫/৭টি কার্ড নিয়ে এস সবকার্ডের চাউল দিতে বলে। যার কার্ড তাকে আসতে হবে বলার পর কার্ড দেখে এক পর্যায়ে তার নিজের, তার মা ও ভাইপোর কার্ডের চাউল দেয়া হয়। কিন্তু সে বাকীদের চাউল পেতে নাছোড় হয়ে ওঠে এবং অশ্লীল ভাষায় চিল্লাতে থাকে। বিশৃংখলার সৃষ্টি হলে বিতরন কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। বাধ্য হয়ে যাদের কার্ড তারা আসলে বাকী চাল দেয়া হবে বলে তাকে ঠেলা দিয়ে বাইরে বের করে দেয়া হয়। এরপর সে জুতা তুলে অশ্রাব্য কথা বলে চেচাতে থাকে। তাকে কোন মারপিট, রক্তারক্তি, কুপ্রস্তাবেরর ঘটনা ঘটেনি। তিনি বিষয়টি চেয়ারম্যান, মেম্বার, ট্যাগ অফিসারসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

ঝর্ণা খাতুন ডিলার কর্তৃক তাকে কুপ্রস্তাব দেয়া, প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় মারপিট, জখম করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন। এরআগেও তাকে কুপ্রস্তাব দেয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবী করেন।

ঘটনাস্থলে থাকা আঃ খালেক মোড়ল, সজল গাইন জানান, বহু মানুষের সামনে এসে ঝর্ণা খাতুন অনেকগুলো কার্ড এনে চাল দিতে বলে। যার কার্ড তাকে আসতে হবে বলায় রাচনৈতিক পরিচয় দিয়ে চাল পেতে গালিগালাছ ও চাপ দেয়। সেখানে মারপিট, রক্তারক্তি বা কোন অশালীন কিছু হয়নি। পরবর্তীতে এনিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলে তারা দাবী করেন।

চা দোকানদার মাবিয়া খাতুন জানান, বাজারে আমার দোকান। ঝর্ণাকে জঘন্য ভাষায় গালিগালাছ করতে ও জুতা হাতে দেখাতে দেখি। তখন অন্য কেউ কথা বলছিলনা। আমি জিজ্ঞেস করলে সে চার বস্তা চাল চাচ্ছে দিচ্ছেনা জানায়। আমি তাকে শান্ত হতে বলি শোনেনা। ওকে ডেকে নিয়ে পানি খেতে দেই। কোন মারপিট, জখম করার মত কোন ঘটনা বা আলামত আমি দেখতে পাইনি বলে তিনি জানান।

ইউপি সদস্য আঃ মজিদ জোয়ার্দ্দার জানান, রসজানের আগে ঝর্না চাল নিয়ে ৩০০ টাকা দেয়নি, সেই টাকা এদিন দেয়। এরপর ৪ জনের কার্ডে চাল চায়। ডিলার তার নিজের এবং মা ও ভাইপোর চাল দিয়ে বাকীরা আসলে চাল দেয়া হবে বলে জানায়। তখন ঝর্ণা অকথ্য ভাষায় গালিগালাছ করলে তাকে ঠেলে ঘর থেকে বের করে দেয়। শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এসব হয়, কোন মারপিট, জখমি বা কুপ্রস্তাবের মত কোন ঘটনা ঘটেনি।

ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মিরাজ আলী বলেন, আমি সেখানে ছিলাম না। পরে শুনেছি ঝর্ণা কয়েকটি কার্ড নিয়ে চাউল চায়, যার কার্ড তাকে আসতে বলে। এনিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে