ভালুকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পুত্রে গুলিতে পিতাসহ তিনজন আহতের ঘটনায় পিতা-পুত্রকে বিএনপি দল থেকে বহিস্কার করেছে কেন্দ্রিয় কমিটি। এঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।
দলীয় সুত্রে জানায়,ঝুট ব্যবসা দখল ও দলের মধ্যে সন্ত্রাস, হানাহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা বিএনপি'র আহবায়ক কমিটির সদস্য ও জামিরদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাবেক সভাপতি মো: খোকা মিয়া এবং তাঁর ছেলে সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি কর্মী তোফায়েল আহমেদ রানাকে বিএনপি'র প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিএনপি কেন্দ্রিয় কমিটির সিনিয়র যুদ্ধ মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক পত্রে ওই পিতা পুত্রকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিস্কৃত তোফায়েল আহাম্মেদ রানা মোবাইল ফোনে জানান,পিতাসহ আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা নারীশ ফ্যাক্টরীর ঝুটের ব্যবসা করে লাভের টাকা ভাগাভাগি করে নিতাম। আমার বাবার তিন সংসার বড় স্ত্রীর ঘরে আমরা দুই ভাই বোন। সে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরামর্শে মাসহ আমাদেরকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়। তখন থেকেই আমাদের মাঝে বিরোধ চলছিল। ঝুট ব্যবসা করে কষ্ট করে সংসার চালাতাম। পিতা খোকা মিয়া সাথে বিএনপির রাজনীতি করেছি। ভালুকায় গ্রুপিং রাজনীতিতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুর্শেদ আলমের পক্ষে ছিলাম। মুশেদ আলম স্বতন্ত্র প্রাথী হলে আমরা তার পক্ষে কাজ করছি। কিন্ত নির্বাচনের কয়েক দিন আগে আমার পিতা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু পক্ষে চলে যায়। নির্বাচনে ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরদিন আমাকে নারীশ ফ্যাক্টরী থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমি পিতার নিকট জানতে চাইলে যে জানায় এমপির নির্দেশে বাদ দেয়া হয়েছে।
১২ এপ্রিল রোবরার আমি বাসার সামনে যুবদলের অফিসে বসে আমার পরিবারের লোজনের সাথে কথা বলছিলাম। এমন সময় আমার পিতা প্রায় অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে এসে আমাকে অফিস বন্ধ করে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলে এটা এমপির নিদের্শ। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং আমাকে অফিসে আটকিয়ে পুলিশে দেয়ার হুমকি দেয়। কোন গুলির ঘটনা ঘটেনি। এঘটনায় আমার দুই চাচা ও এক ভাইকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। তারা জেল হাজতে রয়েছে।
খোকা মিয়া জানান,রানা ৭-৮ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অফিসে বাসাছিল। আমি ওখানে যাওয়ার পর আমাকে লক্ষ করে গুলি ছুড়ে। পড়ে মারামারী শুরু হলে তিনজন আহত হয়।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম জানান,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত সন্দেহে খোকা মিয়ার আপন ভাই ইলিয়াস ও তার ছেলে নাহিন আরেক ভাই জজমিয়াকে গ্রেফতার হয়েছে। এঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি।