লক্ষ্ণীপুরে জেলেদের খাদ্য সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষ্ণীপুর প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রফিজুল ইসলাম, সিরাজ মিয়া, হাবিবুর রহমানসহ অনেকে। এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, সদর উপজেলায় এক হাজার জেলের জন্য খাদ্য সহায়তার তালিকা প্রণয়ন করা হলেও সেখানে নানা অনিয়ম রয়েছে। বিশেষ করে চর রমনীমোহন এলাকার তালিকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তালিকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন আক্তার।
ভুক্তভোগীরা জানান, তালিকায় কিছু সংশোধন আনা হলেও এখনো অনেক প্রকৃত জেলের নাম বাদ পড়েছে। ফলে যারা সহায়তা পাননি, তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং পুনরায় তালিকা যাচাইয়ের দাবি জানাচ্ছেন।
মানববন্ধনে চর রমনীমোহন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন আক্তার বলেন, তার স্বাক্ষর জাল করে একটি দালাল চক্র ভুয়া তালিকা তৈরি করেছে। ওই চক্রটি জেলেদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে আদায় করেছে। পরে সেই তালিকা দিয়েই মৎস্য অফিসের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “এক হাজার জেলের কাছ থেকে দুইশত টাকা করে নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অফিসে দালাল কেন থাকবে? আমরা দালালমুক্ত অফিস চাই। মানববন্ধনে বিক্ষোভকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। এ বিষয়ে লক্ষ্ণীপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, খাদ্য সহায়তার জন্য এক হাজার জেলের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। চর রমনীমোহন এলাকার তালিকা নিয়ে কিছু অভিযোগ ছিল। তালিকায় একই পরিবারের একাধিক নাম থাকায় তা সংশোধন করা হয়েছে। এরপরও কিছু ত্রুটি থাকতে পারে এবং যারা তালিকায় নাম না পাওয়ায় অভিযোগ করছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে খাদ্য সহায়তার তালিকা নিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে উপজেলা মৎস্য অফিসে ক্ষুব্ধ জেলেদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাদের কয়েকজন প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং অফিসের একটি পুরাতন দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এতে একজন গুরুতর আহত হন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।