ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরোধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে গেছে গাছপালা। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বসতবাড়ির।
এদিকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনে কাজ করছে গফরগাঁও উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কৃষি বিভাগ এবং উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পাইথল, নিগুয়ারী, টাংগাব, উস্থি, পাঁচবাগ ও সালটিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে এসব ইউনিয়নের প্রায়ই গ্রামে বোরোধানসহ কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পাইথল ইউনিয়নের শহীদনগর, গয়েশপুর, গোয়ালবরসহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রাম, উস্থি, টাংগাব, পাঁচবাগ, নিগুয়ারী ও সালটিয়া ইউনিয়নের প্রায় গ্রামে বেশিরভাগ ক্ষেতের বোরোধান পড়ে গেছে। উপজেলা গয়েশপুর বাজারে ব্যবসায়ী ফখরুল হাসান রনি জানান, এ যাবতকালের সবচেয়ে বেশী শিলা বৃষ্টি হয়েছে। শিলা বৃষ্টির ফলে উঠতি বোরো ধান ঝড়ে পড়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাছপালা ও ঘরবাড়ি। গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিন মাষ্টার জানান, এই পরিমান শিলা বৃষ্টি হয়েছে যা
রাস্তায় শিলা ঢেকে গিয়েছিল। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় শতাধিক কাঁচা ঘর বাড়ি। পাঁচবাগ গ্রামের বাসিন্দা রুবেল জানান, ঝড় ও শিলা বৃষ্টির ফলে বোরোধান সহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কোথাও কোথাও বসত ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে। গ্রামীণ সড়কে গাছপালা পড়ে আটকে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তার ছিঁড়ে যাওয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। পাইথল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসল, ঘরবাড়ি ও গাছপালাসহ শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকুরা নাম্নী বলেন, শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে মাঠ কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরূপনে কাজ করছে। তবে পাইথল ইউনিয়নের প্রায় ৫০ একর বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য সব ইউনিয়নের কম বেশি বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের তথ্য পাওয়া পর এবিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো যাবে।