দেশের বৃহত্তম রেল মেরামত কেন্দ্র সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা বর্তমানে তীব্র শ্রমিক সংকট,একাধিক শপ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অদক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে। একসময় দেশের রেলব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই কারখানাটি এখন কার্যত অর্ধমৃত অবস্থায় চলছে। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত প্রায় ২,৮৫৯টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭০০ থেকে ৭২০ জনের মতো। অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ পদ শূন্য পড়ে আছে, যার ফলে উৎপাদন ও মেরামত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্যারেজ শপের এক অবসরপ্রাপ্ত মিস্ত্রী জানান, কারখানার ২৭টি শপের মধ্যে বেশ কয়েকটিতে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। দক্ষ শ্রমিকের অভাবে শত শত আধুনিক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হলেও তার সুফল মিলছে না। অবসরপ্রাপ্ত এক শ্রমিক নেতা জানান,বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পর্যাপ্ত অপারেটর না থাকায় মেশিন চালানোই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ তো দূরের কথা, নিয়মিত মেরামত কাজও বিলম্বিত হচ্ছে। কারখানার অনেক শ্রমিকের অভিযোগ,শুধু জনবল সংকটই নয়,অনেক ক্ষেত্রে অদক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কারণে কাজের গতি আরও কমে গেছে। অভিজ্ঞ জনবলের অভাবে নতুনদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে, যা মান ও নিরাপত্তা দুটোকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে। একাধিক শ্রমিক জানান,আগে যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোচ মেরামত হতো, এখন তা দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে। অনেক সময় ভুল কাজ সংশোধন করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
ক্যারেজ শপের এক মিস্ত্রী জানান,একসময় বছরে প্রায় ৯০০টি কোচ মেরামতের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে অনেক কমে। দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করাও সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে, কাঁচামালের সংকট ও বাজেট জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সময়মতো উপকরণ না পাওয়ায় কাজ থমকে থাকে দিনের পর দিন। কারখানার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। যেমন ব্রিজ ওয়ার্কশপ প্রায় এক দশক ধরে কার্যত অচল, যার ফলে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টরা দ্রুত দক্ষ জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি অচল হয়ে পড়তে পারে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বর্তমান চিত্র শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়,বরং দেশের রেলব্যবস্থার ভবিষ্যতের জন্যও বড় সতর্কবার্তা। দ্রুত সংস্কার ও জনবল নিয়োগ ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।