নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ রাখার অভিযোগে মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ১৭ এপ্রিল রাতে ওই অভিযান চলে বেশ কয়েক ঘন্টা ধরে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ পেট্রোল জব্দ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে ফিলিং স্টেশনটিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে অনুমোদনবিহীনভাবে সংরক্ষিত পেট্রোলের মজুদ পাওয়া যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়। জব্দের মধ্যে ছিল পাঁচটি বড় লড়ী,একটি কাভার্ড ভ্যান,একটি মাইক্রোবাস। পেট্রোলের পরিমান কত ছিল তা জানা যায়নি। এটি ছিল গ্যাস ফিলিং স্টেশন কিন্তু স্টেশন বাউন্ডারির মধ্যে মজুদ করা হয় পেট্রোল। স্টেশন মালিক আব্দুর রহমান ওরফে তোতলা দীর্ঘদিন থেকে এ ব্যবসা করে আসছে। সংকটকালে তিনি অবৈধ ভাবে পেট্রোল মজুদ করে তা চড়া দামে রাতের আঁধারে বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব বাহনে বিক্রি করতেন। অভিযানের খবর পুর্বে পাওয়ার কারণে তিনি দ্রুত স্টেশন এলাকা থেকে পালিয়ে যান। তবে তার ছেলে রফিকুল ইসলাম ঘটনা স্থানে ছিলেন। অভিযান চলাকালে মজুদকৃত পেট্রোল সরানোর সময় আটক করা হয় সাত জনকে। জরিমানা করা হয় দুই লক্ষ ষাট হাজার টাকা। টাকা পরিশোধ করায় ছেড়ে দেয়া হয় আটককৃতদের। ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাদ্দাম হোসেন জানান, লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তা বিধি অমান্য করার দায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। অভিযানে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের মধ্যে এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তারা জানান, অবৈধভাবে দাহ্য পদার্থ মজুদ জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।