বরগুনার তালতলী উপজেলার নয়া ভাইজোড়া বিএনএ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫শ’ থেকে ১হাজার টাকা আদায় করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের নয়া ভাইজোড়া বিএনএ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৬৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রবেশপত্র বিতরণে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়ার বিধান না থাকলেও সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ শ’ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী জান্নাতি, মাহফুজা, হাফসা, সজল চন্দ্র দাস, সালাউদ্দিনসহ একাধিক পরীক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় আমরা সব বকেয়া পরিশোধ করেছি। কিন্তু আবার প্রবেশপত্র নিতে গেলে ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পারভীন বেগম, মুনা বেগমসহ একাধিক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, কোন রকম সংসার চালাই। পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়ই ধারদেনা করে স্কুলের সমস্ত বকেয়া আর পাওনা পরিশোধ করেছি। এখন প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় ১০০০ টাকা নিয়েছে। এই টাকা না দিলে সন্তানদের হাতে প্রবেশপত্র দেয়নি। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা প্রতিবাদ করতেও ভয় পাই, আবার পরীক্ষায় কোন সমস্যা কওে কি না। এ বিষয়ে নয়া ভাইজোড়া বিএনএ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণের জন্য নয় কেন্দ্র খরচ ৫শ’ এবং কোচিং বাবদ ৫শ’ টাকা নেওয়া হয়েছে। তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান বলেন, পরিক্ষা কেন্দ্রের খরচ বাবদ ৫শ’ ও কোচিং বাবদ ৫শ’সহ মোট এক হাজার করে টাকা নেওয়ার কথা তারা স্বীকার করেছে। তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং পরীক্ষার্থী অভিভাববকদের ডাকা হয়েছে। মঙ্গলবারের পরীক্ষা শেষে ভুক্তভোগীদের কথা শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।