পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে ইজিবাইক চালকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার শেষ বিকালে কলাপাড়া পৌরসভা অফিস প্রাঙ্গনে এই মানববন্ধনে শতাধিক ইজিবাইক চালক অংশ নেন । এসময় পুলিশের নামে চাদার নামে হয়রানি, মানি না মানবো না; এমন স্লোগান দেন। বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, থানায় কর্মরত পুলিশের রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনের নামে প্রতিদিন দুটি করে ইজিবাইক আটক করে নিয়ে যায় একটি সিন্ডিকেট। তবে পুলিশের নামে ইজিবাইক যারা নেয় তারা দৈনিক দুইটি ইজিবাইকের পরিবর্তে শতাধিক বাহন আটক করে চাঁদা আদায় করে। শুধু তাই নয়,টাকা দিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না এই কর্মজীবীরা। তাই বাধ্য হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। বিক্ষোভকারিদের একজন মো. ইমন জানান,তিনি একজন স্টুডেন্ট । সংসারের প্রয়োজনে অটোরিকশা চালায়। সোমবার পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে তাকে রাতের ডিউটির কথা বলে সাইফুলসহ আরও তিন যুবক ইজি বাইকটি আটকে রাখে। এমনকি অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নেয়ার কথা বললেও রেহাই দেয়নি । পরে তাকে মারধর করে ইজি বাইকের চাবি ছিনিয়ে নেয়া হয়। অপর ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদ জানান, গাড়ি ভাড়া নিয়ে রাস্তায় চালাই, কিন্তু পুলিশের ডিউটিতে বিকেলে গাড়ি নিয়ে যায়। সারারাত গাড়ি নিয়ে পুলিশ টহল দেয়। কিন্তু ভাড়া বাবদ একটা টাকাও দেয় না। এমনকি সারারাতে এক কাপ চা পর্যন্ত খাওয়ায় না। উল্টো নিজের টাকায় মশার কয়েল কিনতে হয়। এমন জুলুম চলছে তাদের ওপর। ভুক্তভোগী সোহাগ জানান, পুলিশের জন্য প্রতিদিন প্রথমে শতাধিক গাড়ি আটক করা হয় । নির্দিষ্ট দুইটা রেখে বাকিগুলো টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয় । এটা এক ধরনের চাঁদাবাজি। একই অভিযোগ করলেন শতাধিক চালক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক জানান, একটি চাঁদাবাজচক্র প্রতিমাসে ২০০ টাকা করে হাতিয়ে নেয়। টাকা নিয়ে একটি টোকেন দেয়া হয়। যে টাকা দিতে চায় না তাকে রাতের জন্য পুলিশ ডিউটিতে বাধ্য করা হয়। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী একটি মহল। এচক্রের সদস্যরা প্রতিদিন গাড়ি থেকে পুলিশের নামে চাঁদা আদায় করছে, যার একটি অংশ হাতিয়ে নেয় প্রভাবশালী ওই চক্রটি। কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, মাত্র ৫ দিন আগে আমি কলাপাড়া থানায় জয়েন করেছেন। এ বিষয়ে কেউ তাকে অভিযোগ করেনি । তবে চুরি ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ইজিবাইক ব্যবহার করতে হয়। সেবামূলক কাজে তাদের সহায়তা নিতে হয়। কিন্তু ইজি বাইক চালকদের কাছ থেকে হয়রানি করে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এটি কোন চক্রের ষড়যন্ত্র কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।