ছেলের বাইকের তেলের জন্য রোদে পুড়ছেন মা

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
ছেলের বাইকের তেলের জন্য রোদে পুড়ছেন মা

তীব্র দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এর মধ্যেই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ডেমলা ফিলিং স্টেশনের সামনে শত শত মানুষের দীর্ঘ সারি। সেই লাইনে সবার নজর কাড়লেন বিথিকা রানী বৈদ্য নামের এক নারী। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন তিনি-উদ্দেশ্য, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক ছেলের জন্য কয়েক লিটার পেট্রোল সংগ্রহ করা। বিথিকা রানীর ছেলে সাগর বৈদ্য পেশায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক। কিন্তু এলাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে গত কয়েক দিন ধরে সাগরের আয়-রোজগার বন্ধ। নিরুপায় হয়ে পেটের দায়ে ছেলে এখন মাঠে কৃষিশ্রমিকের কাজ করতে গেছেন। তাই মা এসেছেন তেলের লাইনে দাঁড়াতে। তিন সন্তানের জননী বিথিকা রানী বলেন, “ছেলেটা আমার ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে আর কৃষি কাজ করে সংসার চালায়। কয়েক দিন ধরে তেল নেই, তাই ও আজ মাঠে কামলা (শ্রমিক) দিতে গেছে। আমি গতকাল থেকেও লাইনে দাঁড়িয়েছি। আজ সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি, কখন তেল পাব জানি না।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন আগে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় টানা পাঁচ দিন তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় তেল দেওয়া শুরু হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। অভিযোগ উঠেছে, সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শুধু সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের তেল দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রভাবশালী মহলের লোকজন নিয়ম না মেনেই তেল সংগ্রহ করছেন। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজারের বেশি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল রয়েছে। তেলের সংকটে এই চালকদের বড় একটি অংশ বেকার হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে পেশা বদলে শ্রমিকের কাজ করছেন। ঘটনাস্থলে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই থেকে তিনশ মোটরসাইকেল নিয়ে চালক ও স্বজনেরা অপেক্ষায় আছেন। মুন্সিগঞ্জ ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন বলেন, “অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটনার কারণে তেল দেওয়া বন্ধ ছিল। আমরা স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় করে আবার তেল দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। সুষ্ঠু বন্টন নিশ্চিত করা গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে।” ততক্ষণ পর্যন্ত বিথিকা রানীদের মতো শত শত মানুষকে এই আগুনের হলকায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে এক লিটার পেট্রোলের আশায়, যাতে চাকা ঘোরে সংসারের।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে