বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ‘টিকিট লুটতরাজ’, একটি আসনের দামই প্রায় ২৮ কোটি টাকা

এফএনএস স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ‘টিকিট লুটতরাজ’, একটি আসনের দামই প্রায় ২৮ কোটি টাকা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে টিকিটের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফিফার অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র চারটি টিকিট এমন দামে তোলা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতিটির দাম প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকার কাছাকাছি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে এই মূল্যবৃদ্ধিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। এর আগে ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে বিশ্বকাপ। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই টিকিটের দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ফিফার রিসেল প্ল্যাটফর্মে দেখা যাচ্ছে, ফাইনালের গোলপোস্টের পেছনের নিচের গ্যালারির একটি নির্দিষ্ট ব্লকের চারটি আসনের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম দামের টিকিটও রয়েছে, যার মূল্যও ১৩ লাখ টাকার বেশি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, শুধু ফাইনাল নয়, সেমিফাইনাল এবং অন্যান্য ম্যাচের টিকিটের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও কয়েক হাজার ডলার থেকে শুরু করে লাখ ডলারের কাছাকাছি দামে টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

ফিফা এই রিসেল বাজার নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং বিক্রেতারা নিজেরাই দাম নির্ধারণ করতে পারেন। তবে প্রতিটি লেনদেনে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ করে কমিশন নেয় সংস্থাটি। ফলে এই সীমিতসংখ্যক টিকিট থেকেও বিপুল আয় করছে ফিফা।

ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের অনেকে বিষয়টিকে ‘অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ’ হিসেবে দেখছেন। ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, “আগে বিশ্বকাপ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য উৎসবের মতো। এখন এটি অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফুটবল মূলত সমর্থকদের খেলা।”

তিনি আরও বলেন, ফুটবলের আর্থিক দিক গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাধারণ দর্শকদের বাইরে রেখে এই খেলা টিকে থাকতে পারবে না।

এদিকে ফিফা জানিয়েছে, টিকিট থেকে পাওয়া আয় বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নে ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে বিনিয়োগ করা হয়। তবে পরিবর্তনশীল মূল্যনীতি ও রিসেল প্ল্যাটফর্ম নিয়ে সমালোচনা থামছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ ব্যবস্থার কারণে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ সমর্থকদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্যও এটি বড় চাপের বিষয় হয়ে উঠেছে। সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে সংস্থাটি কিছু সীমিত টিকিট ৬০ ডলারে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও সেটি শুধু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ থাকবে।

বিশ্বকাপ ঘিরে শুধু টিকিটই নয়, হোটেল, পরিবহন এবং পার্কিং খরচও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে অনেকের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন ‘ফুটবল উৎসব’ না হয়ে ‘অত্যন্ত ব্যয়বহুল আয়োজন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে