রেশন দুর্নীতি ও বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় আবারও উঠে এসেছে ভারতের অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নুসরাত জাহানের নাম। ২২ এপ্রিল সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, ইডির কার্যালয়ে হাজির হয়ে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি। বেরিয়ে এসে কোনো কথা না বললেও, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছেন এই টালিউড তারকা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাকালে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগে কয়েকটি ট্রাক আটক করা হয়েছিল। সেই সময় বসিরহাটের সংসদ সদস্য ছিলেন নুসরাত জাহান। ওই ঘটনার সূত্র ধরেই রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে তার নাম উঠে আসে। সে সময় কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখতেই তাকে তলব করে ইডি।
এর আগে ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলাতেও এই অভিনেত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সংস্থাটি। সাম্প্রতিক তলব ঘিরে তার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না মিললেও, ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। যদিও হাজিরা নিয়ে প্রথমদিকে কিছু অনিশ্চয়তা ছিল, শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত দিনেই তিনি ইডির মুখোমুখি হন।
জিজ্ঞাসাবাদের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছবি শেয়ার করেন নুসরাত। সেখানে নিজের অবস্থান কিছুটা স্পষ্ট করে তিনি লেখেন, “অভিযোগ আর অপবাদ, এই দুইয়ের মাঝামাঝি কোথাও শান্তি খুঁজে ফিরছি, যতক্ষণ না সত্যিটা খুঁজে পাই আমরা।” সমালোচকদের উদ্দেশেও তার বার্তা ছিল সরাসরি, “এসো নিন্দুকগণ, যা ইচ্ছে বলার বলে ফেলো।”
বিশ্লেষকদের মতে, তদন্ত প্রক্রিয়ার মাঝেই এই ধরনের বক্তব্য একদিকে যেমন নিজের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা, অন্যদিকে জনমতের চাপ সামাল দেওয়ার কৌশলও হতে পারে। কারণ রেশন দুর্নীতি, গম পাচার থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বিতর্ক, সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ইস্যুতে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নুসরাত।
তদন্ত এখনও চলমান। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে তাকে আবারও ডাকা হতে পারে।