কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর হত্যাকাণ্ডে চার সন্দেহভাজনকে আটক করেছে র্যাব। এ ঘটনায় চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে র্যাব-১১। আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-১১-এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম। পুলিশ বলছে, মাথার পেছনে জখমসহ আঘাতের চিহ্ন সড়ক দুর্ঘটনার সন্দেহকে প্রকট করে। তবে তিনি বাস থেকে মহাসড়কের কুমিল্লার প্রবেশমুখ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে না নেমে কেন আরও ৪ কিলোমিটার দূরে কোটবাড়ি হাড়াতলী এলাকায় গেলেন। কারা নিয়ে গেল, কেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ বলছে এর উত্তর খুঁজে পেলে মৃত্যু সম্পর্কে সব জানা যাবে। র্যাব-১১ সিপিসির অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, এটি ক্লুলেস মার্ডার। হত্যা না হলে মাথার পেছনসহ শরীরে জখম থাকার কথা নয়। এভাবে মহাসড়কের পাশে মরদেহ পড়ে থাকবার কথাও নয়। ঘটনার পর থেকেই র্যাব তদন্ত চালাচ্ছে। যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। আমরা আশাবাদী, দ্রুতই সন্দেহভাজন অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা যাবে। এ বিষয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা বলেন, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) হিসেবে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন। কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গত ১১ এপ্রিল সেখানে যান। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথে পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সবশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ফোনে জানান, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন তিনি। এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা হাইওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এদিকে, কাস্টমস বিভাগ জানিয়েছে, বুলেট বৈরাগীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে এ মৃত্যু-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সদর দক্ষিণ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস কালবেলাকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই সব দিক মাথায় রেখেই আমরা তদন্ত চালাচ্ছি। কী ঘটেছিল, কারা ঘটাল দ্রুতই আমরা জানাতে পারব। তবে শুরু থেকেই পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।