কালীগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন-বিপাকে পরীক্ষার্থীরা

মোঃ আল-আমিন দেওয়ান; কালীগঞ্জ, গাজীপুর | প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
কালীগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন-বিপাকে পরীক্ষার্থীরা
গাজীপুরের কালীগঞ্জে একদিকে গরমের তীব্রতা অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। শহরের চাইতে গ্রামের লোডশেডিংয়ের পরিমাণ অনেকটাই বেশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে রাতে ৮ থেকে ১০ বারের লোডশেডিংয়ে গড়ে প্রতিদিন ১২-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তেমনি বিরুপ প্রভাব পড়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া, কৃষি কাজ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা, শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা এবং হাসপাতালগুলোতে। এসএসসি/সমমান পরীক্ষা চলাকালীন ও দিন রাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। আলো সংকট ও তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। পাশাপাশি অসুস্থ্য, বয়স্ক ও শিশুদের রাতে ঘুমাতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। তুলনামূলক সকালের দিকে কিছুটা কম হলেও দুপুরের পর শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদী লোডশেডিং। রাতেও কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এসএসসি পরীক্ষার্থী আলিফ তাহসিন ও তাসনিয়া খান জানান, রাতে কিংবা দিনে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর একবার বিদ্যুৎ গিয়ে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পরে আসে। গরমের মধ্যে এবং অন্ধকারে পড়তে খুব কষ্ট হয়, অনেক সময় পড়াই সম্ভব হয় না। পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্তত সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা দরকার। এভাবে লোডশেডিং হলে জানি না পরীক্ষায় ফলাফল কী হবে। লোডশেডিংয়ের জন্য অভিভাবক মাসুম মিয়া গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রতিনিয়ত লোডশেডিং হওয়ার দরুন শিক্ষার্থীরা প্রচন্ড গরমে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে পারছে না। তাদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা চাই পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যেন লোডশেডিং না দেয়। স্কুল শিক্ষক কামরুল হাসান মোল্লা জানান, এখনো সেভাবে গরম শুরু হয়নি, অথচ তার আগেই যেভাবে দিনে ৮-১০ বার লোডশেডিংয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তা অনেকটাই অসহনীয়। লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়ির দৈনন্দিন কাজও ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার সময়টাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, বর্তমানে ঘোড়াশালের সবগুলো বিদ্যুৎকেন্দের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কালীগঞ্জে ৪০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে আমরা প্রতিদিন গড়ে ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি, ঘাটতি রয়েছে ২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। জাতীয় গ্রীডে উৎপাদন কম হওয়ায় দিনের অর্ধেকের বেশি সময় লোডশেডিং হচ্ছে। রবিবার পরীক্ষামূলক ভাবে পূবাইল গ্রীড হতে ১০/১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের একটি বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধে সময় নির্ধারণ করলেও তা সরকারি তদারকের অভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে না। উপজেলায় রাত ৭টার পরও দোকানপাট, বিপণি বিতান খোলা রাখা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে