নাম ও স্থান পরিবর্তন করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতারনা বাণিজ্য

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪২ এএম
নাম ও স্থান পরিবর্তন করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতারনা বাণিজ্য

ভ্রাম্যমান আদালতে মোটা অংকের টাকা জরিমানা দেয়ার পর এবার স্থান ও নাম পরিবর্তন করে ফের প্রতারনা বাণিজ্য শুরু করার অভিযোগ পাওয়া গেছে একটি নামসর্বস্ত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি বরিশাল নগরীর।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বগুড়া রোডে নিউ মেডিনোভা নামে একটি দালাল নির্ভর ও কাগজপত্র বিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করে আসছিল মিঠু নামের এক ব্যক্তি। সম্প্রতি মিঠুর মালিকানাধীন নিউ মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মিঠুকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিলো। পাশাপাশি লাইসেন্সসহ যাবতীয় কাগজপত্র ঠিক করে ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য মিঠুর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মিঠু তার প্রতারণা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বগুড়া রোডের সেই পুরনো স্থান পরিবর্তন করেছেন। বর্তমানে নগরীর ঈশ্বর বসু রোডের এক সাবেক কাউন্সিলরের বাসা সংলগ্ন দ্বিতীয় তলায় নাম পরিবর্তন করে বরিশাল মেডিনোভা নামের ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করছেন মিঠু ও তার স্ত্রী।

 ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন, মিঠুর মালিকানাধীন বরিশাল মেডিনোভা নামের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়না। নেই কোন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ভালো ডাক্তার। এখানে বিভিন্নস্থান থেকে রিক্সা চালক ছদ্মবেশি দালালরা রোগী নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ভুলভাল বুঝিয়ে টেস্টের নামে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়। ঈশ্বর বসু রোডের একাধিক বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বগুড়া রোডের নিউ মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনার পর সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করে নগরীর ঈশ্বর বসু রোডে বরিশাল মেডিনোভা  নামকরণ করে মিঠু নতুন করে তার প্রতারনা ব্যবসা শুরু করেছেন। তারা আরও জানিয়েছেন, বরিশাল মেডিনোভার নেই কোন প্রয়োজনীর কাগজপত্র। পরিবেশ হেলথ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিসসহ যাবতীয় কাগজপত্র ছাড়াই চলছে মিঠুর ভুয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের কাছ থেকে ব্লাড নিয়ে তা বাথরুমে ফেলে দিয়ে মনগড়া রির্পোট তৈরি করে দেওয়া হয়। তাছাড়া কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখানে করানো হয়না। এখানে আল্টাসনোগ্রাম, প্যাথলজি ডাক্তার, রেডিওলজির চিকিৎসক কিংবা কোন ডিগ্রিধারী চিকিৎসক নেই। মিঠু তার নিয়োগকৃত দালালের মাধ্যমে গ্রাম থেকে শহরে উন্নত চিকিৎসা নিতে আসা সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য নামেমাত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে প্রতারনা করে আসছেন। বরিশাল নগরীর সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলসহ ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে বরিশাল মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মিঠুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় কোন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশালের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেছেন, এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী জানিয়েছেন, এনএসআই বরিশাল জেলা কার্যালয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন নজরদারির পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নগরীর আল-আকসা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার, হেলথ এইড মেডিকেল সার্ভিসেসকে ১০ হাজার, নোভা মেডিকেল সার্ভিসেসকে ১০ হাজার এবং ইসলামিয়া ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া বরিশাল সিটি জেনারেল হসপিটালকে ২০ হাজার, গেইন ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টারকে সাত হাজার, নিউ বেবিলন মেডিকেল সার্ভিসেসকে ৫০ হাজার এবং রংধনু ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে