খুব তো কইছিলা আমারে ভালোবাসো
আকাশের ফটফটা জোছনার মতো-
সব আলো দিয়া জড়ায় রাখবার চাইতা।
কোলের উপর বসাইয়া কত স্বপ্ন দেহাইতা;
ছোট্ট একটা ঘর অইবো,
সোনার একটা সংসার অইবো,
দুইজন দুইজনরে সুখ দিয়া জড়াইয়া রাখবো।
এক থালিতে বইসা ভাত খামু,
এক ডিমেরে দুই ভাগ কইরা-
এক ভাগ তুমি অন্য ভাগ আমি।
বিছানার উপর একটা বালিশ থাকবো,
আর ঐ বালিশে দুইজনের মাথা রাইখা
গল্প করতে করতে ঘুমাই যামু।
ভোর বেলা ঘুম থেইকা উইঠা
দুইজনে হাত ধইরা এক সাথে হাটতে যামু,
সহালের সুরুজ ওডা দেখমু।
এক কথায় তুমি কইতা-
জীবনটারে সুন্দর কইরা সাজাইতে
যা করার তার সব কিছুই ভাগ কইরা করমু,
দেখবা সংসারটা সুখে ভইরা যাইবো।
দিনের পর দিন রাইতের পর রাইত খালি
মধুর মধুর স্বপ্ন দেহাইতা,
কিন্তু তুমি নিজে কোন দিন দেহা দিতা না।
দেহা করার কতা কইলেই কইতা-
চিন্তা কইরোনা খুব তাড়াতাড়ি দেহা অইবো।
আমিও চিন্তা করতাম না, খালি তোমারে নিয়া-
স্বপ্ন দেখতাম, তোমার মিষ্টি কথায় পাগল অইতাম।
এইভাবেই অনেক দিন গেলো
তোমার আশায় থাকতে থাকতে,
অদেহাই তোমার সাথে গল্প করতে করতে।
কী জানি কী মনে হইরা আমারে
একদিন দেখা করার তারিক দিলা;
সপ্তাহের প্রথম শনিবার দিন,
খিরু নদীর পারে পুরুনো হিজলতলায়।
তোমার সাথে দেহা অইবো এই খুশিতে রাইতে
ইকটুও ঘুমাইলাম না খালি তোমারেই স্বপ্ন দেখলাম।
সময় কি আর যায়! সপ্তাহের কয়ডা দিন যেন
খু-ব লম্বা অইয়া গেছে- মনে অইছে শনিবার কবে আইবো!
অবশেষে সেই কাঙ্খিত শনিবার আইলো,
আমি সকালে অনেক সাজুগুজু কইরা গেলাম।
গিয়া দেহি হিজলতলা পুরাই ফাঁকা,
আহা কি শান্তির বাতাস!
তুমি আইবা তাই একটা শিকড়ে বইয়া রইলাম,
একবার উত্তরে আরেকবার দক্ষিণে দেখছিলাম।
অপেক্ষার সময় কি আর যায়! তারপরও অপেক্ষা ...
অনেক সময় গেলো, তুমি আইলানা।
দুপুর বেলা ফোনে কইলা-
আমি নাহি খুব মোটা আর কালা, তাই
তোমার সাথে আমারে মানায়না।
তোমার কথায় দুই চক্কের পানি গড়াইয়া গড়াইয়া পড়ছিল,
একাকী নীরবে খুব কানলাম, পরে খালি কইলাম-
তুমি কি হিজলতলা চিনো! যদি চিনতা তাইলে
এই কথা জিবনেও কইতানা।
খুব ভালা করছো; আর হুনো- স্বপ্ন দেহাইন্না মানুষটা তুমি না,
আজ থেইকা আমি মনে করমু
সেই মানুষটা মইরা গেছে জীবন থেইক্কা।
ঐ দুপুরের পর থেইক্কা আর কতা অয় না
মোবাইলে খালি রিং বাজে কিন্তু রিসিভ অয় না
একদিন, দুইদিন, তারপর ব্যাটারির চার্জ শেষ
রঙিন স্বপ্ন দেহাও শেষ।