বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বললেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্নে ১৯৭১ সালের জামায়াত আর এখনকার জামায়াত এক নয়।
সংসদে আনা বিলে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা প্রসঙ্গে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পরওয়ার বলেন, ‘তিনি বলেছেন, আমরা এই জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতিকে থেকে ফিরে আসতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম, এই বিলের মধ্যে পলিটিক্যাল ব্যাড ইনটেনশন আছে। এটা সংশোধন করা উচিত।’
‘বারবার সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে, অতীতের কোনো সরকার সময় এটা ছিল না,’ যোগ করেন পরওয়ার।
বাংলাদেশে কেন-সারা দুনিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু বিতর্কিত আলোচনা ও বক্তব্য থাকতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০-৬০ বছর পরে জাতি যদি পুরাতন কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক এবং জাতিকে বিভক্ত করে, সে জাতি কোনোদিন এগিয়ে যেতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আমিরে জামায়াত বলেছেন, ইতিহাসকে নিয়ে পড়ে থাকলে আমরা কোনোদিন ইতিহাস তৈরি করতে পারবো না। সে জন্য আমাদের পরে স্বাধীন হওয়া পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশ, তারা আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে।’
এই জামায়াত নেতা বলেন, ‘যাদের স্বাধীনতার পরে জন্ম, আজকে পার্লামেন্টে যারা এমপি হয়েছেন আমাদের, তার অধিকাংশই বয়সে তরুণ। এই জন্মভূমিতে, স্বাধীনতার পরে জন্ম, আপনি তাকে স্বাধীনতাবিরোধী বলবেন, আল বদর বলবেন, রাজাকার বলবেন, জনগণ তো হাসে!’
জামায়াতের গঠনতন্ত্র পড়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে পরওয়ার বলেন, ‘ভূমিকাতেই রোকন শর্তের মধ্যে আমরা বলেছি, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই লড়াই-সংগ্রামকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে ধারণ করেছি, স্মরণ করেছি।’
এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ম রক্ষায় আত্মত্যাগের স্বীকৃতি না দিলে তিনি কেউ জামায়াতের ইসলামীর সদস্য হতে পারেন না বলেও জানান তিনি।
পরওয়ার আরও বলেন, “সাংবিধানিক এত পরিবর্তনের পরেও একটা মহল যখন এই বিতর্ক জিইয়ে রাখতে চান, এটা দেশপ্রেম নয়, স্বাধীনতার প্রেম নয়, এটা হচ্ছে জাতিকে বিভক্ত করার একটি বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশে তারা এই কথাগুলো বলেন। এই দুরভিসন্ধি থেকে জাতিকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি মনে করি, আমাদের এগোবার সময় আছে, জাতির মধ্যে একটা জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হোক।”