বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে যোগ দিয়ে বললেন, “প্রবাসীরা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে আয় করা অর্থ দেশের উন্নয়নে পাঠান। তারা বিদেশে প্রাসাদ না বানিয়ে সেই টাকা দেশে পাঠান। তবে এসব রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয় না। চাকরি হারালে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকে না।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থিত মিশন, হাইকমিশন বা দূতাবাস থাকলেও প্রবাসীরা নানা ভোগান্তির শিকার হন। পাসপোর্ট নবায়নে গিয়ে তারা দালালদের খপ্পরে পড়ে হয়রানির মুখে পড়েন। এছাড়া চাকরি হারালে অনেক সময় তাদের পাশে দাঁড়ানোরও কেউ থাকে না। প্রবাসীদের দাবিদাওয়া যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। প্রবাসীদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। যেসব দেশে দূতাবাস প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না, সেখানে এমন অ্যাম্বাসি থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
‘শিকাগোর বেদনাদায়ক ঘটনার ১৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে শ্রম দিবস পালিত হচ্ছে এবং জাতিসংঘ এটিকে আন্তর্জাতিক দিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে এদিন রাজনৈতিক নেতারা শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের আশ্বাস দেন। কিন্তু ১৪০ বছরে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সামান্য অংশও যদি বাস্তবায়িত হতো, তাহলে শ্রমিকদের আর কোনো দাবি থাকতো না’-উল্লেখ করেন তিনি।
৩৬৪ দিন সবাই শ্রমিকদের দাবিগুলো ভুলে থাকলেও পহেলা মে দরদি ও আন্তরিক হয়ে ময়দানে নেমে পড়ে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, শ্রমিকদের প্রয়োজন ও মর্যাদাকে উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না।
শফিকুর রহমান বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমালোচনা করে বলেন, দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে যারা নিজেদের বামপন্থী বলে দাবি করেন, তারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বেশি সংগ্রাম করেন। এখন বাংলাদেশ, তার আগে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে এটি চলে আসছে। যখনই কোনো ইস্যু আসে, বাম দলের নেতা-নেত্রীরা সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়। তারপরে আন্দোলন দানা বেধে ওঠে, মাঠ গরম হয়, কিছু মানুষের জীবন যায়, কিছু মানুষ আহত হয়। আর কিছু মানুষের চাকরি যায়। কিন্তু নেতা-নেত্রীরা রাতের আঁধারে তাদের ভাগটা পেয়ে যায়, ভাগ পেয়ে তারা সন্তুষ্ট হয়ে যায়। তখন গড়ে ওঠা আন্দোলনকে তারা ব্ল্যাকমেইলিং করে। এভাবে যুগ যুগ ধরে নেতা-নেত্রীর কপালের পরিবর্তন হলেও সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
‘তারা (বামপন্থি নেতা-নেত্রী) আবার শ্রেণি-সংগ্রামের আওয়াজ তোলেন। তারা বলেন, শ্রেণি শত্রু খতম করতে হবে। শত্রু কারা? শত্রু হচ্ছে মালিকপক্ষ। আচ্ছা, মালিকও যদি না থাকে তাহলে শ্রমিকটা কাজ করবে কোথায়? আমরা ওই খতমের রাজনীতিতে বিশ্বাসী না। আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা, ভালোবাসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী’-যোগ করেন জামায়াত আমির।