মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস-এর দিনে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলে উৎসবের আমেজের আড়ালে শ্রমিকদের বঞ্চনা ও ক্ষোভের বাস্তব চিত্রই সামনে এসেছে। মে দিবসেও শ্রমিকদের কাজে বাধ্য করা, দীর্ঘদিন বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করা এবং একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় সীতাকুণ্ড পৌরসভার সামনে এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে কুমিরা, বাড়বকুণ্ড, সীতাকুণ্ড ও ফৌজদারহাট শিল্পাঞ্চল শ্রমিক দল এবং পৌর শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভায় হাজারো শ্রমিক, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এসময় শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিতে ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সীতাকুণ্ড সংসদীয় আসনের এমপি অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ বলেন, মে দিবসের মতো তাৎপর্যপূর্ণ দিনেও শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, এটি শ্রম আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী। তিনি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা ও জোর আমতল এলাকায় অবস্থিত কে ওয়াই স্টিম মিলে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু আজ শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। তিনি ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ, বকেয়া পরিশোধ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমিক পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি চালু এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, একসময় সীতাকুণ্ড, বাড়বকুণ্ড ও ফৌজদারহাট শিল্পাঞ্চল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পভিত্তিক অঞ্চল হিসেবে সুপরিচিত ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারিকরণ নীতির প্রভাবে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের অধীন বহু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
প্রধান অতিথি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব। এতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্পখাতে নতুন গতি ফিরে আসবে। আলোচনা সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে “ন্যায্য মজুরি চাই”, “শ্রমিকের রক্তে শিল্প নয়”এবং “বন্ধ কারখানা চালু কর”সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সীতাকুণ্ড।