ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটনের মৌসুমটা হতাশার হলেও সেই অন্ধকারে এক ঝলক আলো হয়ে উঠেছেন ১৮ বছর বয়সী মাতেউস মানে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুলের মতো জায়ান্ট ক্লাবগুলোর। দল রেলিগেশনের পথে থাকলেও এই তরুণ মিডফিল্ডারের ভবিষ্যৎ যেন আরও বড় মঞ্চের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গোল ডটকম জানায়, বড়দিনের পর থেকেই কার্যত রেলিগেশন নিশ্চিত হয়ে পড়া উলভসের মৌসুমে বড় পরিবর্তন আসে মানের আগমনে। ২৭ ডিসেম্বর প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার পর থেকেই দলের খেলায় প্রাণ ফেরান তিনি। সমর্থকদের হতাশার মাঝেও আশার আলো দেখাতে শুরু করেন এই বহুমুখী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
পটভূমিটাও বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। পর্তুগালে জন্ম নেওয়া মানে ছোটবেলায় বড় ভাই ও বন্ধুদের সঙ্গে লাইব্রেরির পাশের ছোট মাঠে খেলেই নিজের দক্ষতা গড়ে তোলেন। পরে ২০১৫ সালে মায়ের সঙ্গে ম্যানচেস্টারে আসেন। ইংরেজি না জানলেও ফুটবল দিয়েই নিজের পরিচয় তৈরি করেন। বিভিন্ন স্থানীয় একাডেমি ঘুরে ২০২৩ সালে রচডেলে সুযোগ পান, আর সেখান থেকেই শুরু তার পেশাদার যাত্রা।
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নজরে পড়ে যান কোচদের। উলভসের একাডেমিতে ট্রায়াল দিয়ে জায়গা করে নেওয়ার পর দ্রুতই মূল দলে ডাক পান। ২০২৫ সালের ১০ মে ব্রাইটনের বিপক্ষে মাঠে নেমে ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রিমিয়ার লিগ অভিষিক্ত খেলোয়াড় হন তিনি।
তবে নিয়মিত খেলার সুযোগটা আসে চলতি মৌসুমে। কোচ পরিবর্তনের পর নতুন কোচ রব এডওয়ার্ডস তার ওপর আস্থা রাখেন। ২৭ ডিসেম্বর অ্যানফিল্ডে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্য দেখান মানে। এরপর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচে ছিলেন দলের সেরা পারফরমারদের একজন।
এরপর ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ৩-০ জয়ে গোল করে নিজের সিনিয়র ক্যারিয়ারের প্রথম গোলও পান এই তরুণ। ম্যাচ শেষে কোচ এডওয়ার্ডস বলেন, “ও মাঝমাঠে দারুণ জায়গা খুঁজে নেয়, সুযোগ তৈরি করে। তার এনার্জি, দৌড় আর ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা অসাধারণ। সে সত্যিই উজ্জ্বল এক প্রতিভা।”
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পারফরম্যান্সই বড় ক্লাবগুলোর নজর কাড়ছে। প্রিমিয়ার লিগে টিকে না থাকলেও মানেকে দলে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উলভসের সামনে। কারণ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার প্রস্তাবে রাজি করানো সহজ হবে না এই উদীয়মান তারকাকে।