আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গায় মরিচ্চাপ নদীর পাড় নদী ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শত বছরের পুরনো গোয়ালডাঙ্গা বাজারের বড় অংশ নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। সাথে একটি জামে মসজিদ এবং শত শত পরিবারের বসতভিটাও হুমকীতে আছে।
মরিচ্চাপ নদীর প্রবল স্রোতে নদীন পাড় ধসে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। অস্থায়ী ভাবে বালিভর্তি বস্তা ফেলানোর কাজ করা হলেও তেমন কোন কাজে আসেনি। পানির স্রোতে বস্তার নিচের মাটি সরে যাওয়ায় আবারও নতুন ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কার বা প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করা না হলে এই অঞ্চলের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে মরিচ্চাপ নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন লোকালয়ের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র গোয়ালডাঙ্গা বাজার এবং শত বছরের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গোয়ালডাঙ্গা জামে মসজিদ।
ইতিমধ্যে বেশ কিছু গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে খুব দ্রুতই বাজার, মসজিদ ও বিস্তীর্ণ বসতবাড়ি নদীতে ধসে পড়তে পারে।
বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মুকুল শিকারী জানান, নদীর পাড় ভেঙে বড় বড় মাটির স্তুপ ধসে পড়ছে স্রোতের বুকে। আতঙ্কে দিন কাটছে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের। অনেক পরিবার ইতিমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের আশঙ্কায় দিন গুনছেন। মসজিদটিতে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা সবসময় অজানা আতঙ্কে থাকেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের আকুতি: বাজারটি আমাদের রুটি-রুজির একমাত্র স্থান এবং মসজিদটি আমাদের আবেগের জায়গা। ঘরবাড়ি হারালে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব। এখনই যদি জিও ব্যাগ ডাম্পিং বা সাময়িক কোনো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তাদের দাবি, অবিলম্বে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ সংস্কারের কাজ করা হোক।
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আজহারুল ইসলাম মন্টু জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক্সেনের কাছে নদী ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, গোয়ালডাঙ্গা বাজার সংলগ্ন বাঁধ ভাঙ্গন স্থান আমি পরিদর্শন করেছি। এমপি মহোদয়ও পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলীকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। বিষয়টি আমি আবারও খোজ খবর নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করবো।