খুলনার কয়রা উপজেলার ১ নম্বর আমাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তরুণ সমাজসেবক ও যুবদল নেতা ইঞ্জি: এস,এম জাহিদুর রহমান শোভন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কারণে তৃণমূলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। জানা গেছে,ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এস,এম জাহিদুর রহমান শোভন। সরকারি সুন্দরবন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে জাতীয়তাবাদী তরুণ প্রজন্ম দলের খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে দলের কঠিন সময়ে টানা প্রায় সাত বছর খুলনা জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার কথাও জানান শোভন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে। একইসঙ্গে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ৫ আগস্টের পর আমাদী ইউনিয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন শোভন। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। এর ফলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে বলেও তারা মনে করেন।
তবে শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছেন বলে দাবি শোভনের। তাঁর অনুসারীদের মতে, তরুণ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এই তিনটি বিষয় তাঁকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখছে। শোভনের পারিবারিক পরিচয়ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর প্রয়াত পিতা মো. অলেজ উদ্দিন সরদার ছিলেন আমাদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। পাশাপাশি তিনি আমাদী ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে পারিবারিকভাবেও স্থানীয় রাজনীতিতে শোভনের একটি দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে।
বর্তমানে এস,এম জাহিদুর রহমান শোভন খুলনা জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। এদিকে আমাদী ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন কার ভাগ্যে জোটে, সেটিই এখন আমাদী ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার অন্যতম বিষয়।