বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি

হলুদ সাংবাদিকতা নিয়ন্ত্রণের তাগিদ আইনমন্ত্রীর

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
হলুদ সাংবাদিকতা নিয়ন্ত্রণের তাগিদ আইনমন্ত্রীর

বাক্স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, তবে হলুদ সাংবাদিকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহননের অপচেষ্টাও নিয়ন্ত্রণ করা খুবই দরকার। আজ রোববার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণবিষয়ক সমন্বয় সভা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ দমনে সাইবার আইন-২০২৬ যথেষ্ট নয়। তাই আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হলেও মানুষের বাক্স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তা আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পুনরায় একটি উপকমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এই সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এবং চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব না দিতে পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় বিচার বিভাগের নানা সমস্যার কথা শোনা হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আদালত পরিকাঠামোর বাইরে গিয়ে জামিন দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও সোনা চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, জমি নিবন্ধনের কর্মকর্তাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। বিশেষ করে ভালো পোস্টিং পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়। তাই প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। আগামীতে সারা বাংলাদেশে এ পদ্ধতি চালু করা হবে। বিগত সরকারের আমল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন সময়ে বহু মিথ্যা ও গায়েবি মামলা পুলিশ বাদী হয়ে করেছে। কিন্তু ২৪-এর ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাদী হয়ে এমন কোনো মামলা হয়নি। তবে কোনো ভুক্তভোগী মামলা করলে পুলিশ সেটি খতিয়ে দেখবে। সার্বিকভাবে দেশ এখন একটা ভারসাম্যের জায়গায় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে কয়েকজন বিচারপতি বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। সরকার এখন সেটি মেরামতের কাজ করছে।

দেশে সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে এ সংকট রয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে আমদানিকারক দেশগুলো থেকে এলএনজি ও সার আমদানি করা যাচ্ছে না। এই বিদ্যুৎ সংকট উত্তরণে দেশে ‘সোলার বিপ্লব’ ঘটাতে হবে বলে জানান তিনি। এর আগে সকালে সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। জেলা ও দায়রা জজ মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আইনমন্ত্রী সীমান্ত জেলা হিসেবে সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দ্রুত বিচারের জন্য সামারি ট্রায়াল (সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়া) করতে হবে এবং মাদক নির্মূলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিচারকদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচার প্রাপ্তিতে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে হবে এবং বিচারকদের কর্মঘণ্টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। লিগ্যাল এইডকে জনবান্ধব করার পাশাপাশি মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে মামলা জট কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। স্থানীয় বিচারকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী জানান, বিচার বিভাগের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে। সাতক্ষীরায় নতুন যে ২৩টি কোর্ট সৃজন করা হয়েছে, সেখানে অতি দ্রুত বিচারক এবং স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী, বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ, তাজকিন আহমেদ চিশতি এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বর্তমান ও সাবেক সভাপতি যথাক্রমে আবুল কাসেম ও মমতাজ আহমেদ বাপীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার রাত ৮টার দিকে আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরায় আসেন এবং সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। রাতে তিনি দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হন। দুপুরে অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আরও একটি দলীয় মতবিনিময় সভায় তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে