কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় বাজি, ফুচকা ও বাসমতি চাল আটক করা হয়েছে। আটককৃত এসব চোরাচালানি পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৯৮ লাখ ৪ হাজার ১৫০ টাকা।
গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলাধীন রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ৪০ লাখ ৪ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় বাজি, ফুচকা ও বাসমতি চাল আটক করা হয়। একই দিনে ব্যাটালিয়নের বিশেষ টহল দল পালপাড়া নামক স্থান থেকে আরও ৫৭ লাখ ৯৯ হাজার ৭৫০ টাকা মূল্যের ভারতীয় বাজি আটক করে। দুটি অভিযানে সর্বমোট ৯৮ লাখ ৪ হাজার ১৫০ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ পণ্য পরিবহন বন্ধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়াও চোরাচালানি পণ্য পরিবহনের সম্ভাব্য বিভিন্ন রুটে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা পণ্য দেশের অভ্যন্তরে পরিবহনের সময়ও তা আটকের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সালমান ফার্সি এবং কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর এ্যাডজুটেন্টের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স দল গঠন করা হয়। টাস্কফোর্স দলটি ওই দিন ১৫টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলাধীন রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ট্রেন থেকে ৪০ লাখ ৪ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ভারতীয় বাজি, ফুচকা ও বাসমতি চাল আটক করা হয়।
একই দিনে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর বিশেষ টহল দল সন্ধ্যা ৬টায় পালপাড়া নামক স্থানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে ৫৭ লাখ ৯৯ হাজার ৭৫০ টাকা মূল্যের ভারতীয় বাজি আটক করা হয়। ফলে একদিনে পরিচালিত পৃথক দুটি অভিযানে সর্বমোট ৯৮ লাখ ৪ হাজার ১৫০ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ এবং দেশের অভ্যন্তরে তা পরিবহনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অবৈধ বাজি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন বন্ধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজিবির এ ধরনের অভিযান শুধু চোরাচালান প্রতিরোধেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবৈধভাবে আমদানি করা পণ্য দেশের বাজারে প্রবেশ করলে বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হতে পারে। তাই চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আটককৃত চোরাচালানি মালামালসমূহের বিষয়ে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ পণ্য পরিবহন বন্ধে আরও ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।