পাচার হওয়া অর্থ ফেরত

অর্থনীতির জন্য আশার আলো

এফএনএস | প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
অর্থনীতির জন্য আশার আলো

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে অর্থপাচার একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ ফেরত আনার দাবি বারবার উঠেছে, কিন্তু বাস্তবে তা খুব কমই সম্ভব হয়েছে। সমপ্রতি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার- বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি টাকার বেশি- উদ্ধার করেছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এমটিএফই নামের প্রতারণামূলক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্য বিনিয়োগকারীকে প্রতারিত করা হয়। সিআইডির তদন্তে জানা যায়, ফেসবুক ও ইউটিউবের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়েছিল। প্রথম দিকে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে আস্থা অর্জন করা হলেও পরে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে চক্রটি উধাও হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টো ওয়ালেটে স্থানান্তর করে বিদেশে পাচার করা হয়। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে অর্থের গতিপথ শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তা ফেরত আনা যায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সহায়তায় ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। তবে শুধু একটি ঘটনার সাফল্যে সন্তুষ্ট হলে চলবে না। দেশে ও বিদেশে যেসব চক্র অর্থপাচারে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালাতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থপাচার রোধে আইন আরও শক্তিশালী করতে হবে। হুন্ডি ও অবৈধ লেনদেনের পথ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে হবে, যাতে তারা দ্রুত লাভের প্রলোভনে প্রতারণার ফাঁদে না পড়েন। ভুক্তভোগীদের জন্য নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং প্রতারণার শিকারদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে হবে। আমরা মনে করি, সিআইডির এই উদ্যোগ অর্থপাচার রোধে একটি আশার আলো। তবে এটি যেন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না হয়, বরং নিয়মিত ও কাঠামোগত পদক্ষেপে পরিণত হয়। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পাশাপাশি নতুন করে কালোটাকার জন্ম বন্ধ করতে হবে। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শন করে, তবে অর্থনীতির জন্য এটি হবে এক বড় অর্জন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে