বাংলাদেশ কোনোভাবেই ইরান যুদ্ধের অংশ নয়। তবু যুদ্ধটা এদেশে হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশে জ্বালানি যুদ্ধে জড়িয়ে পেট্রোল পাম্পে প্রাণহানির মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকার অভিজাত এলাকা সবখানে তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ নিয়ে উদ্বেগ। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে জ্বালানি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এ পরিস্থিতি ২০২২ সালেও হয়েছিল ইউক্রেনে হামলার পর। তবে এতো দ্রুত খারাপ হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। দেশেও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বেশি পরিমাণে তেল কিনতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জমছে ভিড়। এ অবস্থায় গত ৬ মার্চ ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ফলে অনেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছে না। আবার বেঁধে দেওয়া পরিমাণ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে চলে যাচ্ছে অনেকটা সময়। যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না কোম্পানিগুলো। দেশে জ্বালানি সরবরাহে সংকট কিংবা দীর্ঘসূত্রতায় শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও বিপণনেও সমস্যা হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা খুব জরুরি। বিশেষ করে খাদ্যসামগ্রী, ভোজ্যতেল, ওষুধ, সার এবং কৃষি সম্পর্কিত উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর নীতি নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদ, শিল্প উদ্যোক্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জ্বালানি সংকটের সময় শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয় এবং বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতিও বাড়ার ঝুঁকি থাকে। জ্বালানি সংকটের কারণে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের স্বাভাবিক সরবরাহ বিঘ্নিত হতে শুরু করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। কারণ, জ্বালানি তেলের অভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর সব যানবাহন রাস্তায় নামানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশকে এ অবস্থায় জ্বালানি সার্বভৌম নিশ্চিত করতে জরুরি ও সাহসী সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। দ্রুত স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় কম ঝুঁকিপূর্ণ এমন নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমপ্রসারণ করতে হবে। এর জন্য সব ধরনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাই জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পিত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ।